২০ গাছ কর্তন : বিএনপি থেকে পদ হারানো জাহিদুল গ্রেপ্তার
সরকারি বেড়িবাঁধের প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ স্থগিত হওয়া জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ স্থগিত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যক্তিগত স্বার্থে এবং নিজের গাড়ি চলাচলের পথ সুগম করতে নদীভাঙন রোধে রোপণকৃত গাছগুলো কেটে তিনি দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এ ধরনের নিন্দনীয় কাজের জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলাধীন মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহিদুল আলমের বাড়িতে প্রবেশের পথ বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে হওয়ায় তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের সুবিধার জন্য ৫ আগস্টের পর থেকে গাছ কাটা শুরু করেন। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একসঙ্গে ১০-১২টি গাছ কেটে ফেলেন। প্রতিটি গাছের বাজারমূল্য আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বলেন, ১৯৯৫-৯৬ সালে বাঁধ তৈরির সময় এই গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা স-মিল থেকে গাছগুলো জব্দ করেছি।
মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় বলেন, বেড়িবাঁধে কেটে ফেলা গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় ‘খোয়াব’ নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপণ করেছিল।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, মিঠামইন থানায় দায়ের হওয়া গাছ কাটার একটি মামলায় জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক।

মারুফ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ