জয়পুরহাটে দুই প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৯
জয়পুরহাটে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে নয়জন আহত হয়েছে। আহতদের জয়পুরহাটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরকারি কলেজের পেছনে পশ্চিম গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনের ঘোড়া মার্কা প্রতীকের স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেকুন নাহার (শিখা) তার লোকজন নিয়ে সরকারি কলেজ এলাকায় গেলে সেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধানের (ধানের শীষ) কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের নয়জন আহত হয়।
আহতরা হলেন ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা এলাকার আল হামজা (৩১), ফরিদপুর জেলা সদরের তানজিদ (২৯), সোহাগ (২৪), রোহান (২৬) ও আব্দুল্লাহ (২৬), পাঁচবিবি উপজেলার দানেজপুর এলাকার তৌফিক হোসেন (২৭), জয়পুরহাট পৌর শহরের তাজুর মোড় এলাকার রোমান হোসেন (৩৯), শান্তিনগর মহল্লার রাজিব হোসেন (৪১) ও আল আমিন (৩৬)। আহতরা বর্তমানে স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেকুন নাহারের অভিযোগ, কয়েকজন স্বজন ও কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সরকারি কলেজ কেন্দ্রে বুথ দেখতে যাওয়ার সময় কলেজ গেটে ধানের শীষের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তাকে বাধা দেয় এবং তারা তাকে হেনস্থা করে। এ সময় তার পক্ষের লোকজন তাকে উদ্ধার করতে গেলে বিএনপির প্রার্থীর লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় তাদের ওপর হামলা করে। হামলায় তার দেবরসহ কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে।
অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধানের ছোট ভাই জেলা ছাত্রদল সভাপতি মামুনুর রশিদ প্রধান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার ফরিদপুর জেলা থেকে বহিরাগতদের নিয়ে এসে নির্বাচনি এলাকায় টাকা দিয়ে ভোট কিনছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের কর্মী ও স্থানীয় জনতা বাধা দেয়। এ সময় তার পক্ষের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা তাদের কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা ও মারপিট করে। এতে আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, ‘আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা এখন সবাই আশঙ্কামুক্ত।’
জয়পুরহাটের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট