দুই হালি ডিম বিক্রি হলো দুই হাজার টাকায়
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদে দান থেকে প্রাপ্ত দুই হালি ডিম বিক্রি হয়েছে দুই হাজার টাকায়। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র শবে বরাতের রাতে এশার নামাজের সময় কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামে নামাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র শবে বরাতের রাতে ওই মসজিদে এলাকার সামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির জন্য প্রচুর মুসল্লির সমাগম ঘটে। এ সময় দুজন মুসুল্লি মসজিদে দুই হালি ডিম দান করেন। এর মধ্যে ছিল দেশি মুরগির ডিম এক হালি এবং হাঁসের এক হালি। পরে মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিক্রির জন্য দান করা ডিমগুলো উন্মুক্ত নিলামে তোলেন।
স্থানীয় বাজার দর অনুযায়ী, দুই হালি ডিমের আনুমানিক মূল্য ১২০ টাকা হলেও নিলামে প্রথমে এক হালি ডিম ৩০০ টাকায় কিনে নেন মানিক মিয়া। পরে অন্য হালিটি এক হাজার টাকায় কিনে নেন বাদল মিয়া নামের আরেক মুসল্লি। এরপর মানিক মিয়া তার কেনা ডিমগুলো আবার মসজিদে দান করলে নতুন করে নিলাম শুরু হয়। এতে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে দর হাঁকানোর প্রতিযোগিতা চলে। শেষ পর্যন্ত মো. রানা নামের এক মুসল্লি ৭০০ টাকায় ডিমগুলো কিনে নেন। সব মিলিয়ে দুই হালি ডিম নিলামে বিক্রি হয় দুই হাজার টাকায়।
বাদল মিয়া ও মো. রানা জানান, এটি শুধু ডিম কেনা নয়, মসজিদের জন্য কিছু করতে পারা বড় সৌভাগ্যের বিষয়। নেক আমলের আশায় এবং মসজিদের উন্নয়নে সামান্য সহযোগিতা করতে আমি বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিমগুলো কিনেছি। যদি এর মাধ্যমে আল্লাহর ঘরের কোনো উপকার হয়, তাতেই আনন্দ।
এ বিষয়ে নামাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব রবিউল ইসলাম বলেন, ভালো কাজে প্রতিযোগিতার নির্দেশ রয়েছে। মসজিদের জিনিসপত্র কিনে নেওয়ায় আল্লাহর বরকত পাওয়া যায়। বেশি নেকির জন্য মানুষ মসজিদের জিনিস ক্রয় করে। তাছাড়া এ নিলামের অর্থ ব্যয় করা হবে মসজিদ উন্নয়নের কাজে।
খতিব রবিউল ইসলাম আরও বলেন, মসজিদ থেকে খাবার জিনিস কিনে খেলে অসুখ-বিসুখ ভালো হয়, এই বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই।

মারুফ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ