৫ আগস্টের পর কিছু লোক জালিম হয়ে উঠেছে : জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর কিছু লোক জালিম হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাট, স্ট্যান্ড, শিল্পকারখানা ও ঘরে ঘরে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমরা ঘোষণা দিয়েছি—১৩ তারিখ থেকে ইনশাআল্লাহ নতুন বাংলাদেশ শুরু হবে। সেদিন থেকে চাঁদাবাজির দিন শেষ।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ঐতিহাসিক পদুয়া হাই স্কুল মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করে, গুলি উপেক্ষা করে জীবন ও অঙ্গহানি মেনে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে রাস্তায় নামিয়েছে—এই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে, ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে এদেশের যুবকরা একবারও বলেনি—আমাদের বেকার ভাতা চাই। তারা বলেছে—আমাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ চাই। আমি নিজে শাসক হতে চাই না; আমি দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো কাজ করতে চাই। কিন্তু এই চাওয়াকেই গোমর বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনী ও গুলি বাহিনী দিয়ে দাবিয়ে দিতে চাওয়া হয়েছিল। তবে জনগণের প্রতিরোধে সবকিছু ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
শফিকুর রহমান বলেন, এই যুবকরা ঘুমিয়ে পড়েনি—তারা জেগে আছে। আমরা কথা দিচ্ছি, বেকার ভাতা দিয়ে নয়; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন তারাই বলবে—আমিই বাংলাদেশ, এটা আমার বাংলাদেশ।
জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করিয়ে জামায়াত আমির বলেন, যেদিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে হাত তোলা হয়েছিল, সেদিন সারা দেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। পরদিন সেই আগুন বিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ছয়জন জুলাই যোদ্ধা জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেন, বিশেষ করে স্মরণ করতে হয় শহীদ আবু সাঈদকে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই মেধাবী ছাত্র বুক পেতে বলেছিল—আমার অধিকার দাও, না হলে আমাকে গুলি কর। সে বুক পেতেছিল, পিঠ দেখায়নি। বীরেরা কখনো পালায় না—বীরেরা হয় বিজয়ী, না হয় শাহাদাত বরণ করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আবু সাঈদরা আমাদের বলে গেছে—আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জীবন আমরা দিয়ে গেলাম। আমাদের লাশ তোমাদের কাঁধে, আমাদের রক্ত তোমাদের হাতে। আমাদের লাশের সঙ্গে বেইমানি করো না। জাতির মুক্তির জন্য যে পথে আমরা হেঁটেছি, সেই পরিষ্কার রাজপথে হাঁটব—রাজনীতির নোংরা গলিপথে নয়।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের কাছে কথা দিচ্ছি—ইনশাআল্লাহ আমরা কখনো বেইমানি করব না। প্রয়োজনে আমাদের জীবন দেব, কিন্তু জুলাই কাউকে দেব না।
এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের রায় ঘোষণার পর সর্বপ্রথম প্রতিবাদী বিবৃতি দিয়েছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিএনপিসহ যারা প্রতিবাদ করেছে, আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

শহীদুল ইসলাম বাবর, দক্ষিণ চট্টগ্রাম