মাঠপর্যায়ে লিগ্যাল এইড অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে মানিকগঞ্জে সেমিনার
আইনগত দ্বন্দ্ব কমিয়ে দ্রুত ও মানবিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে লিগ্যাল এইড অধ্যাদেশ ২০২৫-এর মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ বিষয়ক সেমিনার। “দ্বন্দ্বে কোনো আনন্দ নেই, আপস করো ভাই—লিগ্যাল এইড আছে পাশে, কোনো চিন্তা নাই”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত সেমিনারে বিচার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের আয়োজনে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিচার প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এস কে এম তোফায়েল হাসান। তিনি বলেন, “লিগ্যাল এইড শুধু মামলা পরিচালনার বিষয় নয়; এটি সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম। বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহনশীলতা ও আপসের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মারুফ আহমেদ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আল আসাদ মো. মাহমুদুল ইসলাম এবং লিগ্যাল এইড অফিসের বিচারক দুরাকসা জাহান প্রিয়ংকা।
বক্তারা বলেন, লিগ্যাল এইড অধ্যাদেশ ২০২৫ মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হলে বিচার বিভাগ, পুলিশ ও আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বিশেষ করে পারিবারিক বিরোধ, ভূমি সংক্রান্ত মামলা ও ছোটখাটো ফৌজদারি বিষয়ে মামলা-মোকদ্দমার পরিবর্তে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সেমিনারে আরও বলা হয়— বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে লিগ্যাল এইডের সেবা পৌঁছে দিতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। থানাপর্যায়ে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম জোরদার করলে আদালতের মামলা জট কমবে।
বক্তারা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সহনশীলতা, সংলাপ ও সমঝোতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এবং লিগ্যাল এইড অধ্যাদেশ ২০২৫ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ