হাজী মোতালেব মহিলা কলেজে পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত
যশোরের কেশবপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেশবপুর মহিলা কলেজ। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় প্রায় এক একর জমি ও নগদ অর্থ অনুদানের পরিপ্রেক্ষিতে এটি ‘হাজী মোতালেব মহিলা কলেজ’ নামে নতুনভাবে পথচলা শুরু করে। তবে প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পার হলেও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকলে আটকে আছে এই স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
বর্তমানে কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ও ডিগ্রি মিলিয়ে ছয়টি সেশনে প্রায় ৬০০ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত। কিন্তু পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় ছাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, জায়গার অভাবে ছাত্রীরা গাদাগাদি করে বসেছে, এমনকি অনেককে ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে লেকচার শুনতে হচ্ছে। আধুনিক শিক্ষার জন্য অপরিহার্য ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি কিংবা কোন মিলনায়তন নেই এই প্রতিষ্ঠানে।
কলেজটির জমিদাতা কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠানটি গড়তে জমি ও অর্থ দিলেও সেটিই এখন অবকাঠামোগত উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলেজের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা এখানে পড়তে আসি, রাজনীতি করতে নয়। একটা ল্যাব বা কমনরুম পর্যন্ত আমাদের নেই। আমরা কি আধুনিক শিক্ষার অধিকার রাখি না? কলেজের ৪২ জন শিক্ষক ও কর্মচারীও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মঞ্জু রানী বিশ্বাস বলেন, শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলায় আমাদের কলেজটি অত্র অঞ্চলে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আজ আমরা অবহেলিত। বিএনপির বর্তমান উপজেলা সভাপতির বাবার নামে কলেজ হওয়ায় বিগত সরকারগুলোর আমলে আমরা বারবার আবেদনের পরেও কোন ভবন বরাদ্দ পাইনি। মেয়েদের নিয়ে জাতীয় প্রোগ্রামগুলো আমাদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে করতে হয়।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)