আমরা দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই : ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একটি দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এজন্য আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি।
আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের এক জনসভায় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এ টি এম মা’ছুমসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের নেতারা।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে আরও ১০টি প্রতীক যুক্ত হয়েছে। এই প্রতীক যাকে যেখানে দেওয়া হয়েছে, আমরা ধরে নেব এর মধ্যেই দাঁড়িপাল্লা আছে। আপনাদের অনেকের মধ্যে মান-অভিমান আছে। সব অভিমান ভুলে ১১ দলের পক্ষে কাজ করে যেতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মচারীরা অনেকে সৎভাবে জীবনযাপন করে না। কারণ, তারা পর্যাপ্ত বেতন পায় না। আমরা পে কমিশনকে বলব—আপনারা যথাযথ রিকমেন্ডেশন আমাদের দেন, যাতে তাদের অসদুপায় অবলম্বন করতে না হয়। তারপরেও যারা অসদুপায় অবলম্বন করবে, তাদের সংশোধনের চেষ্টা করব। এরপরেও যদি তারা সংশোধন না হলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণের আমানত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। যারা চাঁদাবাজি করেন, তাদের বলব—হারাম পথ অবলম্বন করো না। এসব হারাম বাচ্চা-কাচ্চাদের খাওয়াবে না, পরে তারাই তোমাদের বিদ্রোহী হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, এই অঞ্চলের আলেম-ওলামারা দ্বীনের শিক্ষা শুধু নোয়াখালীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি, তারা সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। নোয়াখালীর আলেম ওলামাদের কাছ থেকে দ্বীনি শিক্ষা পেয়েছে অসংখ্য মানুষ। দুনিয়ার এমন কোনো সভ্য দেশ নেই, যেখানে নোয়াখালীর লোক পাওয়া যাবে না। এই এলাকার মানুষ লড়াকু, তারা সামান্য কিছু দেখে ভয় পায় না। তারা লড়াই করতে জানে।
জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের চরম নির্যাতিত একটি দল হলো জামায়াতে ইসলামী। যাদের প্রত্যেকটি অফিস বন্ধ করা হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ৫ আগস্ট নতুন দেশ পেলাম, তখন আমরা উল্লাস করেনি। আল্লাহর শুকরিয়া করেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমাদের নেতাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। অন্য কোনো দলের নেতাদের ক্ষেত্রে এটি হয়নি। দোষটা কি আমাদের? সেই দোষটা হলো তারা একমাত্র আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছিল। কিন্তু আমরা চাঁদাবাজি করিনি, অন্যের সম্পদ দখল করিনি। আপনারা সাক্ষী, আমরা মামলা বাণিজ্য করিনি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও করব না।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা দেশকে ভালোবেসে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পাহারা দিতে শুরু করেছিলাম। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যাদের কাছে এদেশের জনগণ নিরাপদ নয়, ক্ষমতায় এলে মানুষ এদের কাছে আরও বেশি অনিরাপদ হয়ে যাবে। তাই, দেশে জোয়ার শুরু হয়ে গেছে।
জামায়াত আমির বলেন, আজ যুবকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, আধিপত্যবাদের পক্ষে অবস্থান নেবে নাকি বিপক্ষে। যারা বুক ফুলিয়ে অবস্থান নেবে তাদের পক্ষে অবস্থান নিবেন। মায়েরা-বোনেরা বুঝতে পেরেছেন, তাদের ইজ্জত সম্পদ কার কাছে নিরাপদ।
একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে আমিরে জামায়াত বলেন, একজন যুবতি বোন, পোশাকে আশাকে তার মতন সে। তাকে সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছে, আপনি আগামীর ক্ষমতায় কাকে দেখতে চাচ্ছেন। তিনি বলেন, জামায়াতকে দেখতে চাচ্ছি। সাংবাদিক বলেন, তাহলে আপনি তো এই পোশাক পরতে পারবেন না। তিনি উত্তরে বলেন, না পারলে পরব না। জিজ্ঞেস করল, জামায়াতের কোন জিনিসটা আপনার ভালো লাগে, বলে যে, সারা জামায়াতই আমার ভালো লাগে। কেন জামায়াতকে আপনি চান? যুবতি বলে, তারা এলে দেশটি ভালো হবে। ডাকসু থেকে যুবকদের সিদ্ধান্ত দেওয়া শুরু হয়েছে। জকসুকে গিয়ে আপাতত শেষ হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি—আল্লাহ যদি আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দেন, আমরা আপনাদের সেই আস্থার প্রতিদান দেব। আমাদের প্রার্থীদের অধিকাংশের বয়স ৪৫ বছরের মধ্যে। এটি বার্তা দিচ্ছে, আগামীর বাংলাদেশ যুব সমাজের বাংলাদেশ। যুবকরা, তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। আগামীর বাংলাদেশ আমরা তোমাদের হাতে তুলে দেব। তোমরা থাকবে প্লেনের ককপিটে, আমরা প্যাসেঞ্জার সিটে থাকব। সেই প্লেনকে চালিয়ে জাতিকে এগিয়ে নেব, জাম্প দেব, উড়াল দেব। সেই প্রত্যেকটি যুবক গর্ববোধ করে বলবে, আমিই বাংলাদেশ।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, নোয়াখালী অঞ্চলের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার মধ্যে নোয়াখালী বিভাগ, নোয়াখালী শহরকে সিটি করপোরেশন করা এবং হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচরে নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান আমিরে জামায়াত। তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগঞ্জের ফেনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ, সুনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ ও সুবর্ণচরকে পৌরসভায় উন্নীত করা হবে।
জামায়াত আমির বলেন, সুবর্ণচরে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ায় এক মাকে নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই মায়ের সম্মানে ওখানে আমরা পৌরসভা করে দেব। আপনাদের সব দাবি পর্যাক্রমে পূরণ করা হবে। আপনাদের সব দাবি কবুল করা হলো। আপনাদের সঙ্গে বেইনসাফি করা হবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক