নুর আহম্মদ হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নুর আহম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার দীর্ঘ ২৫ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক এই আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মনিরুল হক এবং যাবজ্জীবন দণ্ডিতরা হলেন- ছাইফুল হক, বদরুল হক, আজিজুল হক, আবদুল রাজ্জাক, মো. রফিক, ছৈয়দুল হক, বাবুল হক ও মো. হাছান। সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামির বাড়ি আনোয়ারার বোয়ালিয়া গ্রামে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ৭ জুলাই বোয়ালিয়া গ্রামে জমির ঘাস পরিষ্কার করাকে কেন্দ্র করে দিনমজুরদের বাধা দেন আসামিরা। এ সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। গুলির শব্দ শুনে প্রতিবেশী নুর আহম্মদ ও নুরুল আনোয়ার ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে আসামিরা তাদের কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক নুর আহম্মদকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আহত নুরুল আনোয়ারের বড় ভাই মো. নাসিম বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন। মামলা তদন্ত শেষে পুলিশ ১১ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল।
ট্রাইব্যুনালের পিপি এসইউএম নুরুল ইসলাম জানান, বিচার চলাকালীন আলী আহম্মদ ও মো. গফুর নামে দুই আসামি মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৯ আসামির মধ্যে রফিক, বাবুল ও আবদুর রাজ্জাক রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পলাতক বাকি ছয় আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এক যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হলো।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)