প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবালসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের ১১ মামলা
দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে প্রায় ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি নিয়মিত মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, ২০২১-২২ সালে ব্যাংকের বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মাইন্ডট্রি লিমিটেড নামের একটি বিজ্ঞাপনি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার ১১টি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ট্রান্সমিশন সার্টিফিকেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি চ্যানেলে ১০০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচারের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রচার করা হয় মাত্র ৫০ মিনিট।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, উক্ত ১১টি কার্যাদেশের বিপরীতে মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে প্রকৃতপক্ষে পরিশোধ করা হয়েছে চার কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে আত্মসাৎ করা হয়।
দুদক জানায়, এই অর্থ আত্মসাতে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল, তার পরিবারের সদস্য, ব্যাংকের একাধিক পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মাইন্ডট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল আল মাহমুদ পরস্পর যোগসাজশে জড়িত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, ২০১১ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যানের নির্দেশে মাইন্ডট্রি/মাইন্ডট্রি লিমিটেডের নামে মোট প্রায় ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা অগ্রিম জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় কার্যাদেশ দেখিয়ে প্রায় ৩৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা সমন্বয় দেখানো হলেও প্রায় ৯৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা এখনও অসমন্বিত রয়েছে।
দুদক জানায়, অভিযুক্তরা অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া রেকর্ড প্রস্তুত ও ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ কারণে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)