শিরীন শারমিন ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন উপকারভোগী : পিপি
রাজধানীর লালবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। এদিন দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালতে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে দুই দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শুনানি উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তায় শিরিন শারমিনকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়।
এরপরে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড শুনানি শুরু করেন। তিনি বলেন, এই আসামি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী। তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপি ছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন উপকারভোগী। এ মামলায় তিনি এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি। এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পিপি আরও বলেন, এ মামলার ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া এই ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত ও আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এজন্য তার দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজ।
শিরীন শারমিন চৌধুরীর আইনজীবী ইবনুল কাওসার শুনানিতে বলেন, এ মামলায় ১৩০ জন আসামি, যার মধ্যে শিরীন শারমিন ৩ নম্বর আসামি। মামলায় শুধু তার নামটাই রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনার ১০ মাস পর এ মামলা করা হয়েছে। এরপরে শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড ও জামিন নাকচ করে কারাগারে প্রেরণ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, একজন নারী স্পিকার প্রটোকল নিয়ে গুলি চালাতে পারেন না এবং মামলায় শুধু নাম ছাড়া আর কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, মামলায় শুধু নাম উল্লেখ করা আছে, কোনো প্রমাণ নেই। আমরা চাইলে জামিনও চাইতে পারি। তবে আসামি একজন নারী স্পিকার। নিশ্চয়ই তিনি প্রটোকল নিয়ে গিয়ে গুলি চালাননি। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও কোনো অভিযোগ নেই।
নথি থেকে জানা গেছে—মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। পরে লালবাগ থানার ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলে পুলিশ।
এজাহার থেকে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা এবং নির্দেশে পুলিশ সদস্য ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা করেন ফাহিম নামের এক ব্যক্তি। এ মামলায় শিরীন শারমীন চৌধুরী ৩ নম্বর আসামি।

নিজস্ব প্রতিবেদক