১২ বিঘার সূর্যমুখী বাগান এখন ‘পর্যটন কেন্দ্র’
সবুজের মাঝে দিগন্তজোড়া হলুদের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই সূর্যের দিকে মুখ করে হাসছে হাজারো সূর্যমুখী। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামে তরুণ উদ্যোক্তা মো. কবির হোসেনের এই বিশাল সূর্যমুখী বাগান এখন কেবল একটি কৃষিজ প্রকল্প নয়, বরং রূপ নিয়েছে এক নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্রে।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো সূর্যমুখী চাষ করে সফল হয়েছেন কায়েতপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান হোসেনের ছেলে কবির হোসেন। গত বছর শখের বশে ৬ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করলেও সাফল্য ও ব্যাপক সাড়া দেখে এ বছর তিনি ১২ বিঘা জমিতে এই সূর্যমুখীর বাগান করেছেন। কবির হোসেন যেমন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন পথ দেখিয়েছেন, তেমনি গ্রামীণ পর্যায়ে সৃষ্টি করেছেন এক অনন্য বিনোদন কেন্দ্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি মাসের ২০ তারিখ থেকে পুরোদমে ফুল ফোটা শুরু হওয়ায় দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ বাগানটি দেখতে আসছেন। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে ও বাগানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাগান ঘিরে এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী খাবারের দোকান ও শিশুদের খেলনার দোকান। ফটোসেশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন গেইট ও বসার স্থান।
নয়নপুর থেকে আসা দর্শনার্থী আমিনুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে বন্ধুদের নিয়ে বাগানটি দেখতে এসেছেন তিনি। এখানকার মনোরম পরিবেশ দেখে তারা মুগ্ধ।
পরিবার নিয়ে আসা হিরণ মিয়া ও মনিরা আক্তার জানান, সূর্যমুখীর এমন বিশাল বাগান দেখে মন জুড়িয়ে গেছে। ছবি তোলা আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য এটি চমৎকার একটি জায়গা।
উদ্যোক্তা কবির হোসেন বলেন, শখের পাশাপাশি অর্থনৈতিক লাভ ও পুষ্টিগুণ বিবেচনায় আমি সূর্যমুখী চাষ করেছি। সূর্যমুখীর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আমাকে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করেছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, কবির হোসেনের মতো সফল উদ্যোক্তাদের কারণে সূর্যমুখী চাষে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এ বছর উপজেলায় মোট ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। সূর্যমুখী তেল হৃদরোগীদের জন্য বেশ উপকারী এবং এটি ঘিয়ের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

আব্দুর রউফ, গাজীপুর (শ্রীপুর)