‘আজ আমার ঈদের মতো মনে হচ্ছে’
মাইলস্টোন ট্রাজেডিতে আহত হয়ে দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৫টি অপারেশন শেষ করে অবশেষে বাড়ি ফিরলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দগ্ধ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবিদুর রহিমের বাবা আবুল কালাম আজাদ।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার ছেলে আজ ৬ মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছে, সেটি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আমার ছেলেকে জিজ্ঞেস করছিলাম আজকে বাবা তোমার কেমন লাগছে, সে বলেছিল বাবা আমার আজকে ঈদের মতো মনে হচ্ছে।
চিকিৎসকসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখানে চিকিৎসক এবং নার্স অন্যান্য সবার কাছে যে সহযোগিতা পেয়েছি আমি খুবই অভিভূত। আমি কাউকে ছোট করছি না, ডাক্তার জহিরকে আমার ছেলে অদ্ভুত ডাক্তার বলে ডাকতো। আমার ফোনেও তার নাম অদ্ভুত দিয়ে সেভ করে রেখেছি। আমার ছেলে ক্লাসে এক থেকে পাঁচের মধ্যে রোল থাকতো। সে মসজিদে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় নামাজ পড়তো। দীর্ঘ ছয় মাস তার নামাজ পড়া হয়নি।
এসময় সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবুল কালাম আজাদ জানাতে চান, আহত ও নিহতদের সরকার যে ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছে এখনো দেওয়া হয়নি। যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন আর যদি তারা তাদের নিজের সন্তানকে ওই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিবেচনা করতেন তাহলে হয়তো ক্ষতিপূরণটা তারা নির্ধারণ করতে পারতেন। আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে তাদের এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পুনঃনির্ধারণের আবেদন জানাচ্ছি।
হাসপাতাল থেকে যাওয়ার পর তাদের আরও অনেক চিকিৎসা দরকার, সেগুলো ব্যয় বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এদিকে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়া আবিদ সাংবাদিকদের সামনে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ‘আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি’। এ কথা বলে আবিদ কান্নায় ভেঙে পড়ে।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, আপনারা জানেন আবিদুর রহিম গত বছরের ২১ জুলাই ঘটনার দিন থেকে আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাস অর্থাৎ ১৮০ দিন আমাদের এখানে আবিদুর রহিমকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের এখানে যে ৩৫ জনকে চিকিৎসা দিয়েছি তার মধ্যে রহিম সর্বশেষ। আবিদুরের শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। ২২ শতাংশ দগ্ধ অনেক কম শোনা যায় কিন্তু তার সঙ্গে যে সমস্যাগুলো ছিল ইনহ্যালেশন বার্ন ও ফেস পোড়া এবং হাত পোড়া ছিল। ঘটনার সময় সে একদম ক্লাসের সামনের দিকে ছিল।
এ সময় হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম এবং জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপরে পড়ে। এতে জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জন মারা যায় এবং ৩৬ জন চিকিৎসা নেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক