দ্বৈত নাগরিকত্ব : জামায়াত প্রার্থীর আপিল বাতিল করলেও অপেক্ষায় বিএনপির প্রার্থী
দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে চট্টগ্রাম-৯ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের আপিল বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে একই কারণে বিএনপির শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর আপিল অপেক্ষমান রেখেছে ইসি। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে তৃতীয় দিনের আপিল শুনানিতে এ চিত্র দেখা গেছে।
আপিল শুনানিতে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বলা হয়, দ্বৈত নাগরিত্বের কারণে জামায়াতের এই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার অভিযোগ অস্বীকার করেন একেএম ফজলুল হক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করছে বলে জানান। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন তিনি। এর ফলে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে নির্বাচন কমিশন।
তবে ফজলুল হকের মতো শেরপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীও দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই, এমন প্রমাণ সরাসরি দেখাতে ব্যর্থ হোন।
আপিল শুনানিতে ফাহিম চৌধুরী বলেন, গত ২৬ ডিসেম্বর আমি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেছি। আবেদনে পর একটি ফিরতি মেইলও পেয়েছি। যেখানে বলা হয়েছে, ‘উই হ্যাব প্রসেসড।’
এ সময় ফাহিম চৌধুরীর এই বক্তব্য মানতে নারাজ হোন ইসি। ইসি জানায়, নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে এমন একটি সার্টিফিকেট লাগবে এবং সেই সার্টিফিকেটও যাচাই-বাছাই করতে হবে। তাঁর আগে আমরা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো না। আপনাকে অপেক্ষায় থাকতে হবে। আগামী ১৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শুনানি শেষে একেএম ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমার প্রতি বৈষম্য হয়েছে। বিএনপির অনেক প্রার্থীকে দ্বৈত নাগরিকত্বের কাগজপত্র সাবমিট না করেও মনোনয়নপত্র বৈধ করেছে। রিটার্নিং অফিসারের মত নির্বাচন কমিশনও আমার প্রার্থিতা দেয়নি। এখন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশনে গত ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রোববার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল এবং আজ ১৪১-২১০ নম্বর আপিল এবং আগামীকাল মঙ্গলবার ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি হবে।
সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক