বিএনপির জন্য ১২ বছর ভাত না খাওয়া নিজাম উদ্দিন আর নেই
বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের সেই আলোচিত নিজাম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিনগত রাত ৩টার দিকে মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
পেশায় কাঠমিস্ত্রি নিজাম উদ্দিন ওই গ্রামের নুরানি বকশ মণ্ডলের ছেলে ছিলেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভাত না খেয়ে শুধু শুকনো খাবার খেয়ে জীবনধারণ করেছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার শুরু ২০১৪ সালের ৩১ মে। ওইদিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ গ্রামে দোয়া ও খাবারের আয়োজন করেছিলেন নিজাম উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই অনুষ্ঠানে চড়াও হয়ে রান্না করা খাবারের হাঁড়ি ফেলে দেয়। এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করেন তিনি। সেই থেকে প্রতিজ্ঞা করেন- যতদিন দেশে পুনরায় বিএনপির সরকার ক্ষমতায় না আসবে, ততদিন তিনি ভাত স্পর্শ করবেন না।
নিজাম উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম বলেন, ‘বাবা টানা ১১ বছর ৭ মাস ১০ দিন ভাত খাননি। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে বহুবার তাকে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তিনি বলতেন, প্রতিজ্ঞা ভাঙলে আমি নিজের কাছে ছোট হয়ে যাব।’
দীর্ঘদিন ভাত না খেয়ে কলার রুটি, চিড়া ও মুড়ির মতো শুকনো খাবার খেয়ে জীবন পার করার ফলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিজাম উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তার নির্দেশনায় ফরিদপুর ও ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা শেষে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরেছিলেন। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

মনজুরুল আহসান, ঝিনাইদহ (সদর-কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর)