দিগন্তজুড়ে হলুদের সমারোহ, সরিষার বাম্পার ফলনের হাতছানি
যশোরের অভয়নগর উপজেলার মাঠজুড়ে এখন শুধু হলুদের ছোঁয়া। সরিষা ফুলের উজ্জ্বলতায় সোনালি কার্পেটের মতো সেজেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। অনুকূল আবহাওয়া আর সরকারি কৃষি প্রণোদনার সঠিক ব্যবহারে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অভয়নগরে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলার চাষযোগ্য ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমির মধ্যে ১ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতেই সরিষার আবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে কোদলা বাহিরঘাট, পালপাড়া, মথুরাপুর, পাইকপাড়া, ভাটপাড়া, সিঙ্গেড়ী, সুন্দলী, পায়রা ও চলিশিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আবাদ লক্ষ্য করা গেছে।
এ বছর কৃষকদের মধ্যে বিএডিসির উচ্চফলনশীল জাত বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বিনা-৯ ও ‘সম্পদ’ জাতের সরিষা বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মাঝে উন্নত মানের বীজ, সার ও ফসল সংরক্ষণের ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে, যা আবাদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সরেজমিনে মাঠ ঘুরে দেখা যায়, হিমেল বাতাসে দুলছে সরিষা ফুল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘাপ্রতি ৪ থেকে ৭ মণ পর্যন্ত সরিষা উৎপাদন সম্ভব হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন। এছাড়া মধু সংগ্রহের জন্য মৌয়ালরা মাঠজুড়ে মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন। এতে একদিকে মধু উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে পরাগায়ণের ফলে সরিষার ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লাভলী খাতুন বলেন, কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা থেকে শুরু করে মানসম্মত বীজ ও সার সরবরাহ পর্যন্ত সব কার্যক্রম আমরা পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করেছি। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া বেশ ভালো। এভাবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলন নিশ্চিত হবে।

তাওহীদ উসামা, যশোর (অভয়নগর-বাঘারপাড়া)