দিনাজপুরে সরিষা চাষে নতুন রেকর্ড
উত্তরের কৃষিপ্রধান জেলা দিনাজপুরে এবার সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্তজোড়া মাঠ। কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে জেলায় সরিষার রেকর্ড চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের স্বপ্নে বিভোর কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এবার জেলা থেকে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ লিটার স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্য তেল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দেশের তেলের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ৯৭ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট ২৯ হাজার ৮৯ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৯৯২ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার কর্ণাই ও নশিপুর গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমন ধান কাটার পর এবং বোরো ধান রোপণের আগে জমি অলস পড়ে থাকে। এই মধ্যবর্তী সময়ে বাড়তি ফসল হিসেবে তারা সরিষা চাষ করছেন। এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ৯ মণ সরিষা পাওয়ার আশা করছেন তারা। খরচ বাদে বিঘা প্রতি প্রায় ১৫ হাজার টাকা বাড়তি আয় হবে, যা বোরো চাষের আগে কৃষকদের হাতে নগদ টাকার যোগান দেবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। জেলার ১৩টি উপজেলার ২ হাজার ৫৭২ জন কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়েছে।
তেলকল মালিকদের তথ্যমতে, প্রতি মণ (৪০ কেজি) সরিষা থেকে ১৬ লিটার তেল পাওয়া যায়। সেই হিসেবে জেলায় উৎপাদিত হতে যাওয়া ৪৮ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন সরিষা থেকে বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল পাওয়া সম্ভব হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (গবেষণা ও প্রশিক্ষণ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সঠিক দিক-নির্দেশনা আর অনুকূল আবহাওয়ায় এবার আমরা সরিষার বিপ্লব দেখছি। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষ খাঁটি সরিষার তেলের নিশ্চয়তা পাচ্ছে।
দিনাজপুরের এই অভাবনীয় সাফল্য এখন উত্তরাঞ্চলের অন্য জেলাগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফারুক হোসেন, দিনাজপুর