তারেক রহমান পাশ দিয়ে যাবেন, এতেই খুশি তারা
হযরত আলী। বয়স ৮৫। গতকাল বুধবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে। উদ্দেশ্য— বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানানো। কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হযরত আলী বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটে এসে অবস্থান নিয়েছেন।
হযরত আলী বলছিলেন, তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান যখন বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন, তখন থেকে আমি বিএনপি করি। আমি বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর। আজ ঢাকায় এসেছি কেবল তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে। কিছুক্ষণ পর তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন। পাশে আমি দাঁড়িয়ে থাকব— এটা ভেবেই খুশি লাগছে।
আওয়ামী আমলে দীর্ঘদিন ঢাকায় পালিয়েছিলেন জানিয়ে হযরত আলী বলেন, অনেক কষ্ট করছি জীবনে। বুড়ো বয়সেও বাড়ি থাকতে পারতাম না। ৫ আগস্টের পর মুক্ত হয়েছি। আজ তারেক রহমান আসছেন। আশা করি, তিনি দেশটা ভালোভাবে চালাবেন। দেশকে এগিয়ে নেবেন।
হযরত আলীর সঙ্গে এসেছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মী আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি বলছিলেন, আজ আমাদের খুশির দিন। আজ বিএনপির খুশির দিন। দেশের খুশির দিন। তিনি যাবেন এ পথ দিয়ে। সেই পথে দাঁড়িয়ে থাকতে পেরে ভালো লাগছে।
ঝিনাইদহ সদর থেকে এসেছেন কলিমউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, রাত (বুধবার দিনগত) সাড়ে তিনটার পর বিমানবন্দরে আসি। সেই থেকে এখানে আছি। আজ রাতেই আবার গ্রামে ফিরে যাব। এখানে থাকার জায়গাও নেই। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন এসেছেন। আমার ছেলেও এসেছে। সবাই দেখতে আসছি লিডারকে।
হযরত আলী, ওয়াদুদ কিংবা কলিমউদ্দিন নয়, বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়েছেন। তারা ‘তারেক জিয়ার আগমন, শুভেচ্ছার স্বাগতম’, ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’, ‘কে বলে রে জিয়া নাই, জিয়া সারা বাংলায়’সহ নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, ভোর থেকে বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। তারা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে রেখেছে রাজপথ। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক