২৪ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি কারাগার থেকে পালানো হাজতির
২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও খাগড়াছড়ি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হাজতি শফিকুল ইসলামকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। তাকে আটকের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান চলছে।
আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেল সুপার শাহাদত হোসেন।
এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা ছয় কারারক্ষীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অপর তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কারারক্ষীরা হলেন মো. রবিউল, পুল্টন চাকমা ও সাইফুল ইসলাম। আর বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে সুবেদার মোতালেব হোসেন, প্রধান কারারক্ষী মো. মির হোসেন ও কারারক্ষী মো. ইয়াছিনের বিরুদ্ধে।
আজ দুপুরে চট্টগ্রামের ডিআইজি (প্রিজন) সগির ভুইয়া জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারের অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। দায়িত্বে নিয়োজিত কারারক্ষী ও বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রাম কারাগারের ডিআইজি প্রিজন কারাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, কারারক্ষীদের গাফিলতির পাশাপাশি কারাগারে স্ট্রাকচারাল দুর্বলতাও রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে তিন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ডিআইজি প্রিজন আরও জানান, ১৯৬৪ সালে নির্মিত পুরোনো এ সাব-জেলটির কাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন ছিল অনেক আগেই। খুব দ্রুতই বড় আকারে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কারাগারটি উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে জেলার মো. লাভলু বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন। সদর থানায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন।
জেল সুপার জানান, গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে কারাগারের দক্ষিণ পাশে দেয়ালের পাইপ বেয়ে তিন হাজতি দেয়াল টপকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় একজনকে ভেতরেই আটক করা সম্ভব হয়। বাকি দুজন দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। পরে শহরের টিঅ্যান্ডটি গেট এলাকা থেকে পালাতক রাজিব হোসেনকে আবারও আটক করা হয়। তবে অপর হাজতি শফিকুল ইসলাম এখনও পলাতক, তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

আবু তাহের মুহাম্মদ, খাগড়াছড়ি