শেষ হলো ‘টেম্পল অব দ্য মাইন্ড’
হাজারো ছবি থেকে বাছাই করা ১৮০টি ছবির প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা ‘স্মার্ট-এইচপি টেম্পল অব দ্য মাইন্ড’। রোববার শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ধানমণ্ডির দৃক গ্যালারিতে আয়োজিত নবীন, প্রবীন আলোকচিত্রীদের মন ছুঁয়ে যাওয়া সব ছবির এই প্রদর্শনী।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজি ও এইচপির সহযোগিতায় ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশের শীর্ষ অনলাইন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জ বিডি লিমিটেড পরিচালিত ফটোগ্রাফি ই কমার্স সাইট সেভেন্টিওয়ান পিক্স (www.71pix.com) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রুপ ফটোগ্রাফি ইন আওয়ার ড্রিম। প্রদর্শনীর মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল এনটিভি অনলাইন, চ্যানেল নাইন, রেডিও আমার, ডেইলি সান ও সমকাল।
দৃক গ্যালারিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আয়োজিত প্রদর্শনীস্থলে শেষদিনে ছিল উপচে পড়া ভীড়। নবীন, প্রবীন আলোকচিত্রী, দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল প্রদর্শনীস্থল।
প্রদর্শনীর সমাপন ও পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে রোববার বিকেল পাঁচটায় আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির উপদেষ্টা মোস্তফা জব্বার, প্রখ্যাত অলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজি বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক মুজাহিদ আল বিরুনী, এইচপি বাংলাদেশের সেলস ডেভেলপমেন্ট ব্যবস্থাপক কাজী শামীম হোসেন, ছবি প্রদর্শনীর অন্যতম আয়োজক ফটোগ্রাফি ইন আওয়ার ড্রিমের প্রতিষ্ঠাতা এল কে এম সোহেল প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ছবি হলো ইতিহাসকে ধরে রাখা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের নির্মমতা ও বীরত্ব দুটোই ধারণ করেছেন দেশি বিদেশি আলোকচিত্র শিল্পীরা। একাত্তরের নির্মম যুদ্ধপরাধের পৈশাচিক ঘটনা ফ্রেমে ধরেছেন আলোকচিত্র শিল্পীরা। ছবি যেমন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষ্য দেয়, তেমনি যুদ্ধপরাধীদের এখন ফাঁসি হওয়ারও সাক্ষ্য দিয়েছে অনেক ছবি।
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আলোকচিত্র এখন বিক্রি হচ্ছে। এটি ভিন্ন একটি মাত্রা। ফটোগ্রাফি শিল্প হিসেবেই বিকশিত হওয়ার কথা। তাই একটি ব্যবসায়িক মাত্রা আছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে ছবি তোলে। তাঁদের প্রতিটি ছবিই অসাধারণ। তথ্যমন্ত্রী আলোকচিত্র শিল্পকে পরিপূর্ণভাবে সহায়তার জন্য সংবাদমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির উপদেষ্টা মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশে ফটোগ্রাফি এখন আগের পর্যায়ে নেই। সব দিক থেকেই এর অগ্রগতি হয়েছে। তিনি ফটোগ্রাফির এই অগ্রগতির পেছনে বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশের কথা উল্লেখ করেন।
প্রদর্শনীর আগে সেভেন্টিওয়ান পিক্স ও ফটোগ্রাফি ইন আওয়ার ড্রিম এর উদ্যোগে মাসব্যাপী ছবি নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আলোকচিত্রীদের পাঠানো হাজারের বেশি ছবি থেকে ১৮০টি বাছাই করা হয়। ‘স্মার্ট-এইচপি টেম্পল অব দ্য মাইন্ড’ প্রদর্শনীতে ওই ছবিগুলোই স্থান পায়। প্রদর্শনীর এই ছবিগুলোর ওপরও প্রতিযোগিতা ছিল।

বোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এই অংশে ছিল প্রদর্শনীতে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ও দেশের প্রখ্যাত আলোকচিত্রীরা বক্তব্য দেন। বক্তারা অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের উৎসাহ দেন।
পুরস্কার বিতরণীর শুরুতেই ২০ জন আলোকচিত্রীকে এইচপির বিশেষ প্রিন্টারে তাঁদের ছবির বড় আকৃতির প্রিন্ট উপহার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ছিল স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে স্মারক পুরস্কার।
পরে প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া আলোকচিত্রীদের সাতটি ক্যাটাগরিতে, প্রতিটিতে তিনজন করে মোট ২১ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। তাঁদের প্রত্যেককে একটি ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
বিজয়ীরা হলেন, জিয়া রহমান, ফরিদা আয়াম, দেবর্ষি বিশ্বাস, গোলাম রাব্বানি, সাইফুল ইসলাম, মিলন বেনেট, আকতার হোসেন। দ্বিতীয় স্থান প্রাপ্তরা হলেন, স্বরুপ সাহা, জিয়াউল হক, এনা আহমেদ খান, অভিপসু অর্ক, হাসান তারেক চৌধুরী, মুশফিকুর এ সোহান, ফাজিয়া রাব্বি ভুঁইয়া। আর তৃতীয় হয়েছেন আকতার হোসেন, সুমিত মোহন্ত, ফিরোজা আল-সাবাহ, শমরিতা হক, শামস তাবরিজ, শুভ মৃধা, সৌনক দাস।
অনুষ্ঠানে আগত বিশেষ অতিথীরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

জাহিদ আব্দুল্লাহ