মাদারীপুরে প্রশিকার দুই পক্ষের বিরোধ চরমে
প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন মাদারীপুরের বেসরকারি সংস্থা প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মারামারি থেকে শুরু করে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আর সংবাদ সম্মেলন চলছে দুই পক্ষেরই।
সবশেষ আজ শনিবার জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশিকার কর্মকর্তা শাহিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, প্রশিকার এলাকা সমন্বয়কারী ও বিভাগীয় সমন্বয়কারী তাঁকে মারধর করাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। উল্টো তাঁরাও শাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এনেছেন।
জানা গেছে, প্রশিকার কাজী ফারুক গ্রুপের কাজী রুবায়েত আহম্মদ গত ৬ সেপ্টেম্বর এক আদেশে এলাকা সমন্বয়কারী হিসেবে মো. শাহিদুর রহমানকে শরিয়তপুর থেকে মাদারীপুরে বদলি করেন। একই তারিখে মাদারীপুরের এলাকা সমন্বয়কারী শিবশঙ্কর সাহাকে শরিয়তপুরে এবং বিভাগীয় সমন্বয়কারী শারমীন জাহানকে প্রশিকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বদলি করা হয়। ওই আদেশে শাহিদুর রহমান মাদারীপুরে যোগ দিলেও শিবশঙ্কর ও শারমীন জাহান তাঁদের নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় কাজী ফারুক গ্রুপের পরিচালক কাজী রুবায়েত শিবশঙ্কর ও শারমীন জাহানকে ১ নভেম্বর চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন।
এ বিষয়ে বিভাগীয় সমন্বয়কারী শারমীন জাহান ও এলাকা সমন্বয়কারী শিবশঙ্কর জানান, ফারুক গ্রুপের কাজী ফারুকের ছেলে কাজী রুবায়াত আহম্মদের ওই বদলি ও বরখাস্তের আদেশ বৈধ নয়। তাঁরা প্রশিকার চেয়ারম্যান এম এ ওয়াদুদ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী সিরাজুল ইসলামের আদেশ পালন করতে বাধ্য।
সিরাজুল ইসলাম মাদারীপুরে এলাকা সমন্বয়কারী হিসেবে ডেইজি আক্তারকে পদোন্নতি দিয়ে মাদারীপুরে পোস্টিং দিয়েছেন। কাজেই শাহিদুর রহমান শাহীন মাদারীপুর প্রশিকার কেউ নয়। তাঁরা ডেইজি আক্তারকে এলাকা সমন্বয়কারী হিসেবে সমর্থন করায় শাহিদুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগতদের নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলছে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের দুই মালিক পক্ষের মধ্যে। এর জের ধরে মামলা-মোকদ্দমাও হয়েছে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো মাদারীপুর শাখাতেও সম্প্রতি মারামারি ও প্রকাশ্য বিরোধের ঘটনা ঘটে।

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর