চুরির অভিযোগে মার খেল, জেলও খাটল কিশোর
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, সাবেক চেয়ারম্যান ও চৌকিদারের বিরুদ্ধে এক কিশোরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার বিকেলে চান্দিনা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটের একটি কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান সবুজ (১৫) নামের ওই কিশোরের মা জামিনা খাতুন।
জামিনা খাতুন বরকামতা ইউনিয়নের আশরা গ্রামের বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলনে জামিনা খাতুন জানান, চুরির অভিযোগ এনে ইউপি সদস্য ছামাদ হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, চৌকিদার আবদুল জলিলসহ এলাকার কয়েকজন কিশোর সবুজকে মারধর করে এবং পুলিশেও দেয়।
জামিনা খাতুন দাবি করেন, তাঁর ছেলে সবুজ চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। সবুজ টাইলস মিস্ত্রির কাজ করে। তিনি জানান, ছয় বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। এরপর তাঁর সন্তানরা নিজেরাই কাজ করে সংসার চালায়। এরমধ্যে সবার ছোট সবুজ। সবুজও টাইলস মিস্ত্রি হিসেবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে।
সংবাদ সম্মেলনে জামিনা খাতুন জানান, গত ১১ অক্টোবর সকাল পৌনে ৯টায় ছামাদ, জয়নাল আবেদীন ও আবদুল জলিল লোকজন নিয়ে এসে সবুজকে তুলে নিয়ে যান। তাঁরা অভিযোগ করেন একই গ্রামের এরশাদুল হকের বাড়িতে চুরি করেছে সবুজ। পরে তাঁরা সবুজকে বেদম মারধর করে পুলিশে দেন। ১২ অক্টোবর সবুজের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
জামিনা খাতুন জানান, গত ২৭ অক্টোবর সবুজ জামিনে মুক্তি পায়। মারধরের কারণে সবুজ এখনো অসুস্থ। বর্তমান সবুজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সবুজের মা ছাড়াও ভাই ও অন্য স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

কাজী রাশেদ, চান্দিনা