বৌদ্ধ পর্যটক আকর্ষণে সম্মেলন আয়োজন
বিশ্বের ৪৮ কোটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর মধ্যে থাকা বিপুলসংখ্যক বৌদ্ধ পর্যটক আকৃষ্ট করতে বৌদ্ধধর্ম অনুসারীদের প্রায় ৫০০টি প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চায় বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে আগামী ২৭-২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় ১৩টি সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেশের অংশগ্রহণে বৌদ্ধ সংঘের ওপর দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের ‘সাউথ এশিয়ান বুড্ডিস্ট ট্যুরিস্ট সার্কিটের’ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আখতারুজ্জামান খান কবির বাসসকে জানান, বাংলাদেশে থাকা পাহাড়পুর, মহাস্থানগড় ও ময়নামতির মতো আমাদের প্রধান বৌদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর অবকাঠামো উন্নতির জন্য আন্তর্জাতিক দাতাদের উৎসাহিত করতে জাতিসংঘের উদ্যোগ দেখতে চাই আমরা।
আখতারুজ্জামান খান বলেন, ‘কম্বোডিয়ার ঐতিহাসিক বৌদ্ধ স্থানগুলোর উন্নতিতে জাতিসংঘ সহযোগিতা করেছিল এবং বর্তমানে কম্বোডিয়ায় বছরে ২০ লাখ বৌদ্ধ পর্যটক ভ্রমণ করছেন।’
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের প্রধান জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন চলতি বছরে কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মহাসচিব তালেব রিফাইয়ের কাছে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছেন।
পর্যটন বোর্ডের প্রধান বলেন, ‘জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার নির্দেশ মতোই, বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশে বৌদ্ধ পর্যটনের উন্নতির জন্য একটি কর্মভিত্তিক রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে।’
পর্যটন বোর্ডের প্রধান আরো বলেন, ‘বৌদ্ধ অবকাঠামো ও প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশনগুলো বৌদ্ধ পর্যটকদের কাছে আকৃষ্ট করে তুলতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য আমরা একটি কর্মভিত্তিক রোডম্যাপের পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।’
আখতারুজ্জামান খান জানান, বিশ্ববিখ্যাত বৌদ্ধ পর্যটন বিশেষজ্ঞদের প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মনোনীত উপদেষ্টা প্রখ্যাত বৌদ্ধ পর্যটন বিশেষজ্ঞ লুডভিগ জি রাইডার বাংলাদেশের বৌদ্ধ পর্যটনের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং সম্মেলনের সঞ্চালনা করবেন বলেও জানান তিনি।
আখতারুজ্জামান খান বলেন, ‘মূল প্রবন্ধ তৈরি করার জন্য লুডভিগ জি রাইডার এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ অনুসারীর আকর্ষণীয় স্থান পরিদর্শন করেছেন।’
এদিকে, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক মাসুদ হোসেনের গবেষণা থেকে জানা যায়, বৌদ্ধ হেরিটেজ স্থান দেখার জন্য বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারলে বার্ষিক দেড় লাখ পর্যটকের কাছ থেকে বাংলাদেশ ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে পারবে।

অনলাইন ডেস্ক