২০২৭ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট শুরুর প্রত্যাশা ইউএস-বাংলার
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি রেমিটেন্স যোদ্ধাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরবের মদিনা ও দাম্মাম, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, মালয়েশিয়ার জহুরবারু ও পেনাং এবং হংকং রুটে ফ্লাইট শুরুর প্রত্যাশা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এ ছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে লন্ডন, রোমসহ ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্য এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক, টরেন্টো ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ শক্রবার (১৭ জুলাই) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১৩তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ইউএস-বাংলা ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। বর্তমানে ইউএস-বাংলা নিজেদের বিমান বহরে থাকা তিনটি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ মোট ২৫টি এয়ারক্রাফট দিয়ে ২০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রুট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর ও রাজশাহীতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
২০১৬ সালে ঢাকা-কাঠমান্ডুতে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে ডানা মেলে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে সংস্থাটি কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সই প্রথম কোনো দেশীয় বিমান সংস্থা, যা চীনের কোনো গন্তব্যে বা ভারতের চেন্নাই কিংবা মালদ্বীপের রাজধানী মালে-তে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যাত্রীদেরকে বেশ কয়েকটি স্পেশাল সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা, যা এভিয়েশন শিল্পে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ইউএস-বাংলার উল্লেখযোগ্য সার্ভিসগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের পর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারি। ‘আপনি লাগেজের জন্য অপেক্ষা করবেন না, বরং লাগেজ আপনার জন্য অপেক্ষা করবে’—এ ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই ইউএস-বাংলা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।
ইউএস-বাংলা শুধু যাত্রীই পরিবহণ করে না, সঙ্গে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্গোও পরিবহণ করে থাকে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউএস-বাংলা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ খেলাধুলার উন্নয়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে।
চলতি বছর নেপালের কাঠমান্ডুতে পুনরায় ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা।
সফলতার ১২ বছরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের অর্জন
যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশের অধিক অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে ইউএস-বাংলার। সেবার মান অক্ষুণ্ন রাখতে তাই ২০২৫ সালে বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্সে ভূষিত হয়েছে ইউএস-বাংলা। ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ সালেও বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্স পুরস্কার পেয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া ২০১৫ সালেও বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্সে সেরা পুরস্কার অর্জন করেছে ইউএস বাংলা।
যাত্রীসেবায় অনন্য নজির স্থাপন করায় ইউএস-বাংলা দেশীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে যাত্রীদের কাছে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দেশে-বিদেশে বর্তমানে প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে ইউএস-বাংলার, যা দেশের বেকার সমস্যা সমাধানেও কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া নিয়মিত ট্যাক্স-সারচার্জ পরিশোধ করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করে চলেছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিকে করছে আরও সূদৃঢ়।
ইউএস-বাংলার টিকিট সংগ্রহ করার জন্য রয়েছে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপস সুবিধা। দেশে ও দেশের বাহিরে নিজস্ব ৪০টির অধিক সেলস অফিস রয়েছে। এ ছাড়া ইউএস-বাংলার টিকিট সংগ্রহ করার জন্য কয়েক হাজার ট্রাভেল এজেন্সি ও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারদের জন্য রয়েছে ‘স্কাইস্টার’ প্রোগ্রাম।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন প্রতিষ্ঠানটির এক যুগপূর্তি উপলক্ষে বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যেকোনো ধরনের প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। বর্তমান বিশ্বে যাত্রীদের সঠিক সেবা প্রদান করার জন্য আধুনিক এয়ারক্রাফটের কোনো বিকল্প নেই। ইউএস-বাংলা যাত্রীদের আরামদায়ক সেবাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করে চলেছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে ইউএস-বাংলা পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।’
এ ছাড়া এক যুগপূর্তি উপলক্ষে আবদুল্লাহ আল-মামুন আরও বলেন, ‘ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সাফল্যে ভরা বারোটি বছরের সঙ্গে যেসব সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস, বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক, সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছে, তাদের সবার প্রতি ইউএস-বাংলা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক