পানি বেড়েছে, বৃষ্টিরও সম্ভাবনা
দেশের নদ-নদীর ৪৬টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে কমেছে ৩৫টি স্থানে নদনদীর পানি। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার ১৯টি নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামীকাল বুধবার থেকে পানি আরো হ্রাস পাবে বলে ধারণা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
এদিকে আজ গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাড়বে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছে পাউবো। একই সঙ্গে বেড়েছে যমুনা নদীর পানিও। তবে এ নদীর পানি আগামীকাল বুধবার থেকে কমতে পারে। তবে আজ থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি হ্রাস পেতে শুরু করেছে।
অপরদিকে আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পাউবোর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের ৪৬টি নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৩৫টি নদ নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া ১৯টি নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। ৮৫টি নদ-নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।
কুশিয়ারা ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি হ্রাস পাচ্ছে। এ ধারা পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশের উত্তর, উত্তর-মধ্য ও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হতে পারে এবং সাতক্ষীরা জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
পাউবো আরো জানিয়েছে, সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদীগুলো বেশির ভাগ স্থানে পানিপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে।
এ সময়ে উজান থেকে পানির প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদীগুলোর পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টা তা অব্যাহত থাকবে।
বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা
আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।
এ ছাড়া সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটির বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বাসস জানায়, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে উপজেলার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুটি পয়েন্টে নদীভাঙন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।
জেলা প্রশাসন কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাল বরাদ্দ ও নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম আরো জোরদার করেছে।
গাইবান্ধা এবং নদী অববাহিকার অন্য জেলাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন ৫২ টন চাল এবং ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক