রাজশাহী কলেজে মানব শহীদ মিনার
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মানব শহীদ মিনার তৈরি করে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় রাজশাহী কলেজ মাঠে এ শহীদ মিনারের প্রদর্শন করা হয়। এটা ১৫ মিনিট স্থায়ী ছিল। এতে অংশ নেয় কলেজের ৬০০ শিক্ষার্থী। তারা বলছে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব শহীদ মিনার।
মানব শহীদ মিনারের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী আহনাফ, তামহীদ, নাবিল ও অরণী কর্মকার বলে, ‘আমরা গত ১৪ দিন ধরে পরিকল্পনা করছিলাম। এর আগে বড় ভাইয়েরা মানব পতাকা করেছিল। এবার আমরা মানব শহীদ মিনার তৈরি করলাম। খুব ভালো ভাগছে।’
রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মহা. হবিবুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহী কলেজ সৃজনশীলতার প্রতীক। শিক্ষার্থীরা নিজেরা এসে বলেছিল, এবারের শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তারা কলেজ মাঠে মানব শহীদ মিনার তৈরি করবে। গত বছর আমরা মানব পতাকা তৈরি করেছিলাম। এবার শিক্ষার্থীরা মানব শহীদ মিনার তৈরি করল।’
অধ্যক্ষ বলেন, রাজশাহী কলেজে দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছিল। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাতে মুসলিম হোস্টেলের গেটের পাশে ওই শহীদ মিনার নির্মাণ করে কলেজের তৎকালীন শিক্ষার্থীরা। তবে পরে সেটি ভেঙে ফেলা হয়। রাজশাহী কলেজে দেশের প্রথম শহীদ মিনারের নির্মাতা ও ভাষাশহীদদের স্মরণ করতে শিক্ষার্থীরা মানব শহীদ মিনার ডিসপ্লে করে।
অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান আরো বলেন, রাজশাহী কলেজের যে স্থানটিতে দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল, সেখানে ৫২ ফুট উচ্চতার একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা ডিসপ্লেতে সেই শহীদ মিনার তৈরি করে দেখিয়েছে বলে জানান তিনি। অধ্যক্ষ বলেন, এ জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শহীদ মিনারের নকশাও তৈরি হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বলে জানান অধ্যক্ষ।

শ. ম সাজু, রাজশাহী