আদালতে তাণ্ডবের তদন্তে কমিটি
চট্টগ্রামের আদালতে মানবপাচার মামলায় সস্ত্রীক এক আইনজীবীর জামিন নাকচ হওয়ায় পর বিচারকের এজলাস ও তাঁর কক্ষ ভাঙচুর করার ঘটনা তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করেন। অপর সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ ও চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হুসেইন মো. রেজা।
এ বিষয়ে সাব্বির ফয়েজ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘কমিটিকে এজলাস ভাঙচুরের ঘটনা তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন প্রধান বিচারপতি। কমিটি আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তদন্ত শুরু করেছে। আশা করি, তদন্তে দোষীদের খুঁজে বের করা হবে।’
গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে মানবপাচার মামলায় সস্ত্রীক এক আইনজীবীর জামিন নাকচ হয়। এর পরই বিচারকের এজলাস ও তাঁর কক্ষ ভাঙচুর করেন আইনজীবীরা। জামিন বাতিল হওয়া আইনজীবী হলেন জামাল হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিচারক দুজনের জামিন আবেদন নাকচ করলে আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। তবে আড়াই ঘণ্টা পর মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ পারভেজ ওই আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রীকে জামিন দেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মানবপাচারের একটি মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, বিকেলে দুজনকে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে হাজির করা হয়। দুজনকে সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। আইনজীবীরা এ সময় জামাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রীকে শর্তসাপেক্ষে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক জামিন নাকচ করেন। এরপর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আইনজীবীরা। এ সময় বিচারক এজলাস ছেড়ে চলে যান। এর মধ্যে এজলাস ও কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ এলে আইনজীবীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
পরে প্রবীণ আইনজীবী ও সমিতির নেতারা মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মো. শাহজাহান কবিরের কাছে যান। বিচারক বিষয়টি মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ পারভেজের কাছে যেতে বলেন।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন দাবি করেন, ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘আমাদের এক সহকর্মীকে সন্দেহজনকভাবে একটি মামলায় জড়িত করা হয়েছে। সমিতির নেতাদের হস্তক্ষেপে জামিন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমিতি একসঙ্গে কাজ করবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক