তিন সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সেই শামীম রিমান্ডে
সাভারে তিন সাংবাদিকদের ওপর হামলার মামলার প্রধান আসামি শামীম রেজাকে সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিয়ামত উল্লাহ্’র উপস্থিতিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুই সহযোগীসহ আটক করা হয় শামীমকে। কেবল মাদক ব্যবসায়ই- নয়, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র মামলা, ভুয়া পুলিশ সেজে ডাকাতিসহ ১১টি মামলা রয়েছে শামীম রেজার বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম।
আদালতে পাঠানো অপর দুজন হচ্ছেন শামীম রেজার অন্যতম সহযোগী ফেরদৌস আহমেদ রাজু (৩৪) ও রাকিব হোসেন (২৪)। এর মধ্যে ফেরদৌস আহমেদ রাজুর বিরুদ্ধেও রয়েছে পাঁচটি মামলা। এছাড়া রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কিনা তার যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে শামীমকে গ্রেপ্তারের ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলিসহ প্রত্যাহার করা হয় চার পুলিশ কর্মকর্তাকে। এর জেরে গত ২৬মে থেকে সাভার মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পদটি শূন্য রয়েছে।
গত ২২ মে দুপুরে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাভারের আইচা নোয়াদ্দা এলাকায় যান দেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন এবং ক্যামেরা পারসন মনিরুল হক কাইয়ুম ও এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।
এ সময় চিহ্নিত মাদক কারবারিরা তিন সংবাদকর্মীকে জিম্মি করে স্থানীয় একটি গ্যারেজে নিয়ে যায় এবং সেখানে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নির্যাতন চালায়। হামলাকারীরা দেশ টেলিভিশনের গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং ক্যামেরা, মেমোরি কার্ড ও ট্রাইপড ছিনিয়ে নেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সংবাদকর্মীদের উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ চারজনকে আটক করলেও মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা শামীমসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। সর্বশেষ বুধবার কক্সবাজার থেকে মামলার প্রধান আসামি শামীমকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনার জেরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যাহার করে সংযুক্ত করা হয় পুলিশ লাইনে।

জাহিদুর রহমান