ঢাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, তিন দিনে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ সংগঠনের ৬১
জনজীবনের স্বস্তি ফেরাতে ঢাকা জেলায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। চলতি মাসের শুরু থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত এক হাজার ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১২০ জন সদস্য রয়েছেন। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬১ জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে গত তিন দিনে। এদিকে মাদক,সন্ত্রাস, অস্ত্র এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ঘোষণা করা হয়েছে জিরো টলারেন্স।
সাভার মডেল থানায় বিশেষ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
সাভারের মাদক পল্লীতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর করে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মূলহোতা রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দুই সহযোগীসহ মাদক কারবারি শামীম রেজাকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে বিশেষ এই প্রেস ব্রিফিং এর আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত এ ঘটনায় প্রত্যাহার করা হয় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলীসহ চার পুলিশ কর্মকর্তাকে।
পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ঢাকা জেলার ৭টি থানার আওতায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট এক হাজার ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাভার মডেল থানায় ১৪০,আশুলিয়া থানায় ১৫২, ধামরাই থানায় ১১৬, কেরানীগঞ্জ থানায় ১০৬, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ১২৫, দোহার থানায় ৯১, নবাবগঞ্জ থানায় ৯৫,ডিবি উত্তর ১০২ ও ডিবি দক্ষিণ গ্রেপ্তার করে ৮১ জনকে।
এছাড়া, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫০৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শামীমা পারভীন আরও বলেন, ১১ জুন পর্যন্ত নিষিদ্ধ সংগঠনের মোট ১২০ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫ জনকে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে মাদকসংক্রান্ত মামলায় ৩৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ২০ কেজি গাঁজা, ১৫ হাজার ৫৭০ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। এছাড়াও একটি বিদেশি রিভলবার, এক রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকা জেলা পুলিশের নিয়মিত অপরাধ দমন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন–ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ),আরাফাতুল ইসলাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল), রাকিবুল হাসান ইশান, সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ,পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন,আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা খান,অফিসার ইনচার্জ, ডিবি (উত্তর),সাইদুল ইসলাম,টিআই, প্রশাসন (উত্তর)মোহাম্মদ রুহুল আমীন সোহেল।

জাহিদুর রহমান