ঘুরতে যেতে চান না স্বামী, বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন অতিষ্ঠ স্ত্রীর
শারজার এক নারী তার স্বামী বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহের কারণে হতাশ হয়ে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। শারজাহ আদালতের ‘ফ্যামিলি গাইডেন্স ডিপার্টমেন্টের’ পরিচালক ড. রাধিয়া হাসান আল রাইসি বিষয়টি জানিয়েছেন। খবর গালফ নিউজের।
সম্প্রতি শারজাহ টিভির ‘কাদিয়া লিল হিওয়ার’ নামের এক অনুষ্ঠানে ড. রাধিয়া হাসান আল রাইসি বলেন, ওই নারী ‘পারিবারিক পরামর্শ সেবা কেন্দ্রে’ অভিযোগ করেন—তার স্বামী বাড়িতে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন এবং তার সঙ্গে বেড়াতে যেতে চান না।
ওই নারীর অসন্তোষের কারণ থাকা সত্ত্বেও রাধিয়া হাসান আল রাইসি বলেন, ওই নারীর স্বামীর বেশকিছু ইতিবাচক গুণও ছিল।
ড. রাধিয়া ওই নারীর স্বামীকে দয়ালু, উদার, ধৈর্যশীল, শান্ত ও ধীরস্থির স্বভাবের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি কখনোই স্ত্রীকে আঘাত বা অপমান করতেন না।
রাধিয়া হাসান আল রাইসি বলেন, ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর প্রধান বিরোধ ছিল—বাইরে যাওয়ার চেয়ে বাড়িতে সময় কাটানোকে বেশি প্রাধান্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে।
বিষয়টি বড় পরিসরে বিবেচনা করে আল রাইসি ওই নারীকে পরামর্শ দেন, যেন এই মতপার্থক্যের কারণে দাম্পত্য জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো ঢাকা পড়ে না যায়। তিনি পরামর্শ দেন, স্বামী যদি বাইরে যেতে না চান, তবে স্ত্রী তার সন্তানদের সঙ্গে বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন অথবা নিজের বাবা-মা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন।
জীবনযাপন পদ্ধতি এবং বিনোদনের বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করতে পারে, তা স্বীকার করে ড. রাধিয়া হাসান আল রাইসি বলেন, এ ধরনের পার্থক্যের কারণে যে বিবাহবিচ্ছেদই হতে হবে—এমন কোনো কথা নেই।
ড. রাধিয়া হাসান প্রতিটি মতপার্থক্যকে আইনি বা পারিবারিক বিবাদে রূপান্তর করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে যখন সম্পর্কের মধ্যে অন্য কোনো গভীর সমস্যা থাকে না।
রাধিয়া হাসান আল রাইসি বলেন, আলোচিত এই দম্পতির দাম্পত্য জীবন সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল ও নিরাপদ ছিল এবং সেখানে কোনো গুরুতর বা জটিল সমস্যা ছিল না। তিনি বলেন, দম্পতিদের এটা বোঝা প্রয়োজন—ব্যক্তিত্ব ও জীবনযাপনের পার্থক্য দাম্পত্য জীবনেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। তাই ছোটখাটো মতপার্থক্যকে পারিবারিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ না দিয়ে বরং সেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলতে শেখা উচিত।
ড. রাধিয়া হাসান আল রাইসি এ ঘটনার মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে দৃষ্টিভঙ্গি, বোঝাপড়া ও সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সঙ্গী কী দিতে পারছেন না—শুধু সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে, তিনি দম্পতিদের এমন সব গুণের কথা বিবেচনা করতে উৎসাহিত করেন, যা তাদের সম্পর্ক এবং বৃহত্তর পরিবারকে শক্তিশালী করে তোলে।
পারিবারিক পরামর্শক হিসেবে ড. রাধিয়া হাসান আল রাইসি নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ হিসেবে এ ঘটনাটি তুলে ধরেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক