মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে লেবাননে মৃত্যুদণ্ডের প্রথা বাতিল
সংসদে ভোটের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের প্রথা বাতিল করেছে লেবানন৷ ঐতিহাসিক এক ভোটাভুটির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে তার পরিবর্তে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান চালু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি৷
লেবাননের ১২৮ সদস্যের সংসদে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অধিকাংশ সদস্যই মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পক্ষে ভোট দেন৷ তবে হেজবুল্লাহর সমর্থকরা মৃত্যুদণ্ড বাতিল চাননি৷
বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে সারা বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে৷ ফলে লেবাননে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তারা৷
লেবাননের সংসদের স্পিকারের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১২৮ সদস্যের সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তির পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্যরা এর বিরোধিতা করেছেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের উদ্যোগকে দেশের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
লেবাননে ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ রয়েছে। তবে দেশটির আদালতগুলো এরপরও কয়েক ডজন মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। লেবাননের বিচার মন্ত্রণালয়ের কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ নাগাদ দেশটিতে ৮৫ জন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি ছিলেন।
মানবাধিকার সংস্থার প্রশংসা
মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক হেবা মোরায়েফ এটিকে লেবাননের জন্য ‘বিশাল মাইলফলক’ ও ‘মানবাধিকারের বড় বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
হেবা মোরায়েফ বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ থাকার পর নতুন আইন সেই অনিশ্চিত বিরতিকে স্থায়ী আইনি সুরক্ষায় রূপান্তর করেছে। একই সঙ্গে এটি জীবনের অধিকারকে সমুন্নত রাখবে এবং মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্তির বৈশ্বিক ধারার সঙ্গে লেবাননকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক