ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই, তবে আলোচনা চলবে : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ইরান আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে আমরা তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি যে যুদ্ধবিরতি শেষ। খবর রয়টার্সের।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে দেশটির কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার অনুরোধ তারা করেনি। বরং কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের স্বাগত জানাতে সম্মত হয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের কাছে প্রকাশ্যে ঘোষণা দাবি করছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আর কোনো হামলা চালানো হবে না এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে সেখানে অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে ওমান সফরে যাচ্ছেন বলে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ জানিয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যদি ইরান তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে কঠোর জবাব দেবে।
ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে ইরানের সব অঞ্চল ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সম্প্রতি ওয়াশিংটনকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যাতে ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করে, তবে তেহরানও সমানুপাতিক জবাব দেবে।
গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধ করে স্থায়ী শান্তি আলোচনার পথ তৈরি করা। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত সেই উদ্যোগকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক