বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল উপাত্ত ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার জেরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজর প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ‘নন-ফার্ম পে-রোল’ রিপোর্টের দিকে, যা থেকে ফেডারেল রিজার্ভের আগামী দিনের সুদের হার সংক্রান্ত নীতিমালার একটি পরিষ্কার আভাস পাওয়া যাবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫৭ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা গত ২৩ জুনের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭o দশমিক ১০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। এর আগে গত বুধবার সাত মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি চলে গেলেও দিনশেষে স্বর্ণ ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ হাজার ২৯.৮৯ ডলারে উঠেছিল। খবর রয়টার্সের।
এবিসি রিফাইনারির প্রাতিষ্ঠানিক বাজার প্রধান নিকোলাস ফ্র্যাপেল স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বমুখী বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, বেসরকারি খাতের এডিপি কর্মসংস্থান উপাত্ত পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুর্বলতার প্রতিফলন আজকের মূল নন-ফার্ম পে-রোল রিপোর্টেও দেখা যাবে; আর এই প্রত্যাশাতেই বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ কেনা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এডিপির জাতীয় কর্মসংস্থান প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৯৮ হাজারটি, যেখানে মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার। অথচ রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদেরা জুনে অন্তত ১ লাখ ১৮ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ গত বুধবার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা এবং এর ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, মূল্যস্ফীতিকে ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যে নামিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সিএমই ফেডওয়াচ অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬৪ শতাংশ ধরে রাখছেন।
দোহায় কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত মার্কিন-ইরান পরোক্ষ বৈঠক কোনো স্থায়ী সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সাধারণত তেলের চড়া দাম ও শক্তিশালী শ্রমবাজার বাজারে মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। স্বর্ণকে প্রথাগতভাবে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষিত ঢাল হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ না দেওয়া এই মূল্যবান ধাতুটি বিনিয়োগকারীদের কাছে কিছুটা আকর্ষণ হারায়। তবে তেলের দাম কমায় সেই চাপ কিছুটা লাঘব হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি আজ বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৬০.০৬ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬০৭.৬৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২৭.১৩ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক