পার্টির নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা স্টারমারের, এবার নতুন প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের লড়াই
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার দলীয় নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের লড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে স্টারমার জানান, তিনি মনে করেন আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই সেরা ব্যক্তি নন। তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এবং নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ করেছেন। খবর বিবিসির।
স্টারমার জানান, ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং ১৬ জুলাই পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগে তা শেষ হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সেপ্টেম্বরের আগেই নতুন নেতা নির্বাচিত হবে। ততদিন পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।
কিয়ার স্টারমার বলেন, আমার উত্তরসূরি এমন একটি ব্রিটেন পাবে, যা দুই বছর আগে আমি যে ব্রিটেন পেয়েছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ন্যায়সঙ্গত।
গ্রেটার ম্যানচেস্টরের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের দৌড়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, যাকে বার্নহামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তিনিও বার্নহামকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন।
স্ত্রী ভিক্টোরিয়াকে পাশে নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে বক্তব্য দিতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্টারমার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পালন করার পর এখন তিনি স্বামী ও বাবা হিসেবে নিজের পরিবারের জন্য আরও বেশি সময় দিতে চান।
স্টারমার বলেন, আমার অসাধারণ স্ত্রী ভিক সব সময় আমার শক্তির উৎস ছিলেন। আর আমার সন্তানরা আমার গর্ব ও আনন্দ। আমি তাদের জন্য একজন সেরা বাবা হতে চাই।
২০২০ সালের এপ্রিলে লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন কিয়ার স্টারমার। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। তার পদত্যাগের ফলে তিনি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালনকারী লেবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন।
তার বিদায়ের মাধ্যমে ২০১৬ সালের পর যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।
চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস স্টারমারের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তার সঙ্গে কাজ করে দেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার সুযোগ পেয়েছেন।
অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক স্টারমারকে ‘ভয়াবহ প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সমস্যার মূল কেবল স্টারমার নন, বরং লেবার পার্টির নীতিই এর জন্য দায়ী।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি বলেন, বারবার প্রধানমন্ত্রী বদলালেও যদি বাস্তব পরিবর্তন না আসে, তাহলে ব্রিটিশ জনগণের হতাশা আরও বাড়বে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্টারমারকে ‘খুব ভালো মানুষ’ ও ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করলেও ইরান যুদ্ধ ও উত্তর সাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলন নিয়ে তার অবস্থানের সমালোচনা করেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক