স্বচ্ছতা বাড়াতে ব্যক্তিগত করের হিসাব দেবেন রাজা চার্লস
ব্রিটেনে রাজপরিবারের অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে জনগণের ক্রমবর্ধমান চুলচেরা বিশ্লেষণের মুখে, রাজপরিবারের আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজা তৃতীয় চার্লস তার ব্যক্তিগত করের হিসাব (ট্যাক্স বিল) প্রকাশ করবেন। আজ রোববার (২১ জুন) বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রধানরা নির্দিষ্ট কিছু কর প্রদান করা থেকে আইনত মুক্ত, যদিও গত কয়েক দশক ধরে তারা স্বেচ্ছায় কিছু শুল্ক বা কর পরিশোধ করে আসছেন।
তাদের ব্যক্তিগত করের হিসাব প্রকাশ করারও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে মর্যাদা হারানো সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক কিছু কেলেঙ্কারি রাজপরিবারের অর্থায়নকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
চার্লস যখন সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ছিলেন, তখনই তার ব্যক্তিগত করের তথ্য প্রকাশ করা শুরু করেছিলেন। তবে রাজপরিবারের প্রধান বা সম্রাট হিসেবে তিনিই প্রথম এই তথ্য প্রকাশ করতে যাচ্ছেন।
সীমিত সংখ্যক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের কাছে শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাকিংহাম প্যালেসের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘সার্বভৌম শাসক হিসেবে এটি করার সিদ্ধান্ত স্বয়ং রাজার একান্ত ইচ্ছাতেই নেওয়া হয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২২ সালে চার্লস সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে যেসব রূপান্তর বা পরিবর্তন আনা হয়েছে, এটি তারই অংশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো রাজপরিবারের আর্থিক সব বিষয়কে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যা এর স্পষ্টতা এবং সহজলভ্যতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটকেও তুলে ধরে। সহজ কথায়, আমরা আধুনিকায়ন এবং বিবর্তনের ধারা বজায় রাখছি।’
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজপরিবারের বার্ষিক আর্থিক হিসাব প্রকাশের অংশ হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার চার্লসের কর সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
নানান উৎস থেকে আয়
রাজপরিবারের প্রধান বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ পেয়ে থাকেন, যার মধ্যে রয়েছে জনগণের অর্থায়নে পরিচালিত 'সার্বভৌম অনুদান' এবং এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত ডাচি (জমিদারি বা সম্পত্তি) থেকে আসা কোটি কোটি পাউন্ডের আয়।
২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে এই অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ কোটি ২১ লাখ পাউন্ড (১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার) হয়েছে, যা আগের অর্থ বছরে ছিল ৮ কোটি ৬৩ লাখ পাউন্ড। রাজা চার্লস ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে 'ডাচি অফ ল্যাঙ্কাস্টার' থেকে ব্যক্তিগত আয় হিসেবে ২ কোটি ৬৮ লক্ষ পাউন্ড পেয়েছেন।
একটি আধুনিক ব্যবসার মতো পরিচালিত জমি, সম্পত্তি এবং বিনিয়োগের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও সমৃদ্ধ এই ঐতিহাসিক ডাচির লভ্যাংশ থেকেই রাজার ব্যক্তিগত খরচ এবং কিছু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের খরচ মেটানো হয়।
এটি রাজতন্ত্রের প্রধানের ব্যক্তিগত আয়ের প্রধান উৎস। একইভাবে সিংহাসনের বর্তমান উত্তরাধিকারী—চার্লসের বড় ছেলে উইলিয়াম, প্রিন্স অফ ওয়েলস—তার 'ডাচি অফ কর্নওয়াল' থেকে একই ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন।
যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, রাজাদের আয়কর, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স (মূলধনী লাভ কর) বা উত্তরাধিকার কর দিতে হয় না।
তবে রাজপরিবারের আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে জনগণের চাপ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর ১৯৯৩ সাল থেকে তাঁরা স্বেচ্ছায় প্রথম দুটি কর পরিশোধ করে আসছেন।
বাবার মতো উইলিয়ামও তার ডাচির লভ্যাংশের ওপর স্বেচ্ছায় আয়কর এবং ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিয়ে থাকেন।
ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার
আসন্ন কর সংক্রান্ত এই প্রকাশনা চার্লসের অন্যান্য ব্যক্তিগত আয়ের ওপরও আলো ফেলবে।
রাজা চার্লস তার মা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ-এর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বালমোরাল এবং স্যান্ড্রিংহাম—উভয় এস্টেটেরই (জমিদারি) মালিক। সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের এক চুক্তির আওতায় এগুলো উত্তরাধিকার কর থেকে মুক্ত ছিল।
ব্যক্তিগত আয়ের অন্যান্য উৎসের মধ্যে বিনিয়োগ থেকে আসা অর্থ বা বাণিজ্যিক মুনাফাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষতিকর তথ্য ফাঁসের পর থেকে রাজপরিবার তাদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক