যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু আলোচনা ৬০ দিনের বেশি সময় নিতে পারে
তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা সফল হতে ‘৬০ দিনেরও বেশি’ সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক থিংক ট্যাংক ‘দ্য সুফান সেন্টারের’ সিনিয়র ফেলো কেনেথ কাটজম্যান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
কাটজম্যান বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। পরমাণু ইস্যু সংক্রান্ত এই আলোচনা অত্যন্ত জটিল ও বিস্তারিত হওয়ায় এটি চূড়ান্ত রূপ নিতে ৬০ দিনের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বেশ কিছু জটিল বিষয়ের সমাধান করতে হবে। কাটজম্যান বলেন, নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল মনোযোগ থাকবে ইরানের পরমাণু প্রতিশ্রুতির ওপর। কারণ, এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ববর্তী অবস্থান তৈরি করেছিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন, খসড়া সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব পথ বন্ধ করার মার্কিন উদ্দেশ্য পূরণ করতে পেরেছে। এখন মার্কিন আলোচকরা এই বিষয়গুলোকে একটি লিখিত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবেন, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সংক্রান্ত জটিল প্রযুক্তিগত বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
তিনি আরও যোগ করেন, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের মাধ্যমে সত্যতা যাচাইকরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে সব মিলিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক