বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। মার্কিন বিমান হামলার জবাবে তেহরান ‘হরমুজ প্রণালি’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) লেনদেনের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ২ ডলারের বেশি লাফিয়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২মিনিট নাগাদ কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে ৮ সেন্ট বা ০.০৯% বৃদ্ধির পর ব্যারেল প্রতি ৯৩.১৮ ডলারে থিতু হয়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ২৫ সেন্ট বা ০.০৮% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত
আরও পড়ুন : মধ্যপ্রাচ্যের ১৮ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের
ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের বেসামরিক নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকবে। কোনো জাহাজ এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে সরাসরি গুলি চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই অবরোধের খবরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে।
ডাচ বহুজাতিক ব্যাংক আইএনজির বাজার বিশ্লেষকরা গ্রাহকদের জানিয়েছেন, এই চরম উত্তেজনা ইঙ্গিত দেয় যে দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি এখনো অনেক দূরে। ফলে পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি সরবরাহ আগামী দিনগুলোতে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে থাকবে।
আরও পড়ুন : এবার মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
আরও পড়ুন : ‘মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি’, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়
তবে বাজারে তেলের দামের এই বড় লাফ পুরোপুরি স্থায়ী হয়নি। কারণ ব্যবসায়ীরা এখনও এই রুট দিয়ে তেল সরবরাহে বড় কোনো বাস্তব বা সরাসরি জাহাজডুবির ঘটনা দেখেননি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে তারা ইরানি সামরিক নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর দ্বিতীয় তরঙ্গের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের নেতারা যদি অবিলম্বে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর না করেন, তবে তিনি তাদের ওপর আরও বিধ্বংসী বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাবেন।
দুই দেশের এই সর্বাত্মক যুদ্ধাবস্থার কারণে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেকের‘ সামগ্রিক তেল উৎপাদন গত মে মাসে বিগত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের কারণে একদিকে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ। অন্যদিকে হরমুজে ইরানি কড়াকড়ির কারণে পারস্য উপসাগরের অন্যান্য আরব দেশের সরবরাহও কমতে শুরু করেছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের নিজস্ব কৌশলগত মজুত থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৭৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক