লাটভিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, বাড়ছে উদ্বেগ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে রাশিয়া থেকে লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান।
লাটভিয়ার সামরিক বাহিনী স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) জানিয়েছে, রুশ ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার প্রভাবে পথচ্যুত হয়ে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি বিদেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে ফরাসি যুদ্ধবিমান। তবে ড্রোনটির সুনির্দিষ্ট উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। খবর আল জাজিরার।
এ ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ক্রমেই ন্যাটোভুক্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠছে।
লাটভিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাইবা ব্রেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরাসি মিত্রদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোনটি ভূপাতিত করার জন্য আমাদের ফরাসি মিত্রদের ধন্যবাদ।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রিস কুলবার্গস দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পেশাদার পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাইভিস মেলনিস জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর রাশিয়ার সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের বেরজগালে গ্রামের কাছে ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি এবং কোনো সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি।
ফরাসি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শিয়াউলিয়াই বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা যুদ্ধবিমান জনবসতিহীন এলাকায় ড্রোনটি ধ্বংস করে। তারা বলেছে, এই অভিযান ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ফ্রান্সের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে আকাশ ও সমুদ্রপথে ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। এতে যুদ্ধের প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লাটভিয়ার সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, ড্রোনটি সম্ভবত ইউক্রেনীয় ছিল এবং রুশ ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে পথচ্যুত হয়ে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে।
একই দিনে মোলডোভার একটি কৃষিজমিতেও ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এছাড়া গত সপ্তাহে কনস্টান্টা বন্দরে একটি সামুদ্রিক ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, যা পরে ইউক্রেনের বলে নিশ্চিত করা হয়।
অন্যদিকে মে মাসের শেষ দিকে রোমানিয়ার একটি আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে দুইজন আহত হন। এরপর বুখারেস্ট ন্যাটোর কাছে দ্রুত অ্যান্টি-ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানায়।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এখন ইউরোপের পূর্ব সীমান্তবর্তী দেশগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান সরাসরি হুমকি হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, ফরাসি যুদ্ধবিমানটি ন্যাটোর ন্যাটো বাল্টিক এয়ার পলিসিং মিশনের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল। ২০০৪ সালে লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং এস্তোনিয়া ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পর থেকে এই মিশন তাদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক