যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড় নয় : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জব্দকৃত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা হবে না।
স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুন) সম্প্রচারিত এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। তিনি জানান, কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে ইরানের অর্থ ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প বলেন, চুক্তি হওয়ার পরই এসব বিষয়ে আলোচনা হবে। তারা যদি ভালো আচরণ করে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন আমরা কথা বলা শুরু করব।
তবে ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের জব্দকৃত সম্পদের অন্তত একটি অংশ মুক্ত না করলে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে। তেহরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের কথাও বারবার উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পারমাণবিক আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র দুবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করায় ইরানি নেতাদের মধ্যে সন্দেহ আরও বেড়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি। তবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জব্দকৃত সম্পদসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনও বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও ইরানকে সামরিক হামলার হুমকি দেন। তিনি বলেন, আমরা হয় চুক্তির খুব কাছাকাছি, নয়তো আমি তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালাব।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই শনিবার সিএনএনকে বলেন, আলোচনা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি এই জট কাটাতে ট্রাম্পের প্রতি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ জব্দ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় ধীরে ধীরে এসব অর্থে প্রবেশাধিকার পাওয়ার কথা ছিল ইরানের। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে অর্ধেক অর্থ এবং পরবর্তী ধাপে বাকি অর্থ ছাড় করা হবে।
রেজাই এ অর্থ ছাড়কে ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জানান, লেবাননকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাধ্যতামূলক অংশ করার দাবি তিনি করছেন না।
তবে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান হামলা এখনও আলোচনার অন্যতম জটিল বিষয় হয়ে রয়েছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সতর্ক করে বলেছেন, দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে।
রোববার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে লেবাননের সংঘাতের জন্য সম্পূর্ণভাবে হিজবুল্লাহ দায়ী।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক