রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত আরও ১২
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নতুন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০৭ জন শিশু নিহত হয়েছে।
ইউক্রেনের ন্যাশনাল পুলিশ জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক এলাকায় রুশ বোমা ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
সাতটি এলাকায় হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে দোব্রোপিলিয়া, দ্রুজকিভকা ও ক্রামাটর্স্কসহ কয়েকটি শহর ও গ্রাম রয়েছে। হামলায় ৪২টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে আবাসিক ভবন, অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিৎসা কেন্দ্রও রয়েছে। খবর আল জাজিরার।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আরও ৩ জন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর।
একই অঞ্চলের সুমি এলাকায় ইয়াম্পিল গ্রামে আরেকটি হামলায় ২ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় বেশ কয়েকজন নারী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এছাড়া মধ্য ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে গোলাবর্ষণে একজন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। হামলায় একাধিক এলাকায় আগুন ধরে যায় এবং লজিস্টিক কোম্পানির একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে গোলাবর্ষণে আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক ‘ইনোসেন্ট চিলড্রেন ভিকটিমস অব অ্যাগ্রেশন’ দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০৭ জন ইউক্রেনীয় শিশু নিহত হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, হাজারো শিশু আহত হয়েছে, অপহৃত হয়েছে এবং বহু শিশুর ভাগ্য এখনও অজানা। তিনি রাশিয়ার হামলাকে শিশুদের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বড় অন্যায় ও নির্মমতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাশিয়া-অধিকৃত লুহানস্ক ও ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছে বলে মস্কো-সমর্থিত কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। কিছু এলাকায় বেসামরিক যান ও ট্রেন লক্ষ্য করে হামলার কথাও জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের একটি গ্রাম দখল করেছে এবং ইউক্রেনীয় সেনাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে।
অপরদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে তা উন্নত করা হবে।
দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এখনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই সীমান্তবর্তী ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা-পাল্টা হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক