বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) এই প্রস্তাব করা হয়। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ এর আওতায় অন্যায্য বাণিজ্য নীতির ওপর পরিচালিত একটি তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা জরুরি শুল্ক বাতিল করে দেয়। ফলে নতুন করে শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ইউএসটিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের ঘাটতি সংক্রান্ত এই তদন্তের আওতায় বাংলাদেশ, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ব্রিটেনের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এছাড়া তদন্তের আওতাভুক্ত বাকি ৪৫টি দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিশন গ্রির এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের পক্ষ থেকে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে পদক্ষেপ না নেওয়াটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে যেখানে মার্কিন শ্রমিকদের বিশ্ববাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
নতুন এই শুল্ক প্রস্তাবের পাশাপাশি ইউএসটিআর বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য একটি বিশেষ ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’ চালুর প্রস্তাব করেছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত শুল্ক হারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে এই সুবিধার আওতায় শুল্কের হার ও আমদানির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কত হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ এর অধীনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিল করার পর, একই দিনে ট্রাম্প প্রশাসন ১০ শতাংশের অস্থায়ী শুল্ক জারি করেছিল। আগামী ২৪ জুলাই ওই অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই নতুন স্থায়ী শুল্কের প্রস্তাব নিয়ে এল প্রশাসন।
এর আগে গত সোমবারও (১ জুন) ডিজিটাল বাণিজ্য নীতি ও অন্যায্য শুল্কের অভিযোগে ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছিল ইউএসটিআর। এছাড়া চীনের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন ক্ষমতাসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে চলমান আরেকটি বড় ‘সেকশন ৩০১’ তদন্তের ফলাফলও খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুল্কের আওতামুক্ত থাকছে যেসব পণ্য
জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত এই তদন্তের ভিত্তিতে শুল্কের প্রস্তাব করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পণ্যকে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। ইউএসটিআরের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, রেয়ার আর্থ এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট কিছু ফল ও সবজি, ওষুধ , জৈব রাসায়নিক এবং বিমানের যন্ত্রাংশ এই অতিরিক্ত শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
প্রস্তাবিত এই নতুন শুল্ক কাঠামো ও অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করবে ইউএসটিআর। এই বিষয়ে আগামী ৭ জুলাই একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক