মার্কিন প্রস্তাবে হিজবুল্লাহর সম্মতি, নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা না চালানোর বিনিময়ে ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন দূতাবাস এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়া নিয়ে আশাবাদের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ না করলে বৈরুতে বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে।
লেবানন দূতাবাস ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতির পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এই বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর সামনে এল। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন দূতাবাস সোমবার (১ জুন) গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা পারস্পরিক হামলা বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবে হিজবুল্লাহর সম্মতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকবে। এর বিনিময়ে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধ হবে। পরবর্তীতে এই যুদ্ধবিরতি পুরো লেবানন জুড়ে কার্যকর করার কথা রয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা উভয়ই সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলমান মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য বড় হুমকি—ইরানের এমন সতর্ক বার্তার পরই ট্রাম্প এই আলোচনা শুরু করেন।
মার্কিন প্রস্তাব ও হিজবুল্লাহর সম্মতির বিষয়টি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিশ্চিত করলেও তার সুর ছিল বেশ কঠোর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহ যদি আমাদের শহর ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ না করে, তবে বৈরুতে হামলা চলতেই থাকবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চুক্তি যাই হোক না কেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে।
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও মাঠপর্যায়ে এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি পরিস্থিতি। দুই পক্ষ থেকেই বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের দুটি গ্রামের কাছে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সৈন্যদের লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ‘কয়েক দফা কামানের গোলা’ ব্যবহার করে তিনটি পৃথক হামলা চালিয়েছে। ফলে এই শান্তি প্রস্তাবের ভবিষ্যৎও যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে কি না, তা নিয়ে এখনও শঙ্কা কাটেনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক