কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব এখন গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতর থেকেই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। দলটির সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট রেডিও ফোরের এক সাক্ষাৎকারে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যা ওয়েস্টমিনস্টারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর অনেক এমপি ক্ষুব্ধ ও হতাশ। অনেক কাউন্সিলর নিজেদের আসন হারিয়েছেন, যা নিয়ে দলের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। খবর বিবিসির।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ আনতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন, অর্থাৎ ৮১ জন এমপির। ক্যাথরিন ওয়েস্ট দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে ১০ জন এমপি রয়েছেন। যদিও অনেক এমপি মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে কেউ কেউ বলছেন, এটি স্টারমারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিদ্রোহের সূচনা হতে পারে।
এদিকে, দলের ভেতরে সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি নন, ফলে সরাসরি নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে তার সমর্থকদের দাবি, স্টারমার যদি সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি ঘোষণা করেন, তাহলে বার্নহ্যামের জন্য পার্লামেন্টে ফেরার পথ খুলতে পারে।
অন্যদিকে, স্টারমার নেতৃত্ব ছাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনেও তিনি দলকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত এবং দ্বিতীয় মেয়াদেও প্রধানমন্ত্রী থাকতে চান।
আগামী সোমবার (১১ মে) স্টারমার তার নেতৃত্ব ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে বক্তব্য দেবেন। বুধবার (১৩ মে) পার্লামেন্টের স্টেট ওপেনিং অনুষ্ঠানে সরকারের নতুন আইন প্রস্তাবও তুলে ধরা হবে। এখন প্রশ্ন উঠেছে-লেবার পার্টি কি স্টারমারকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেবে, নাকি দলীয় বিদ্রোহ আরও তীব্র হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক