মুদ্রাস্ফীতির চাপে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) টানা তৃতীয় দিনের মতো মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ ও মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (ফেড)-এর আসন্ন সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রভাবেই এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
কেন কমছে স্বর্ণের দাম?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু কারণ স্বর্ণের বাজারকে মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা আজ বুধবার বিকেলে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। আশা করা হচ্ছে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকবে, তবে ফেড প্রধান জেরোম পাওয়েলের সংবাদ সম্মেলনের দিকে সবার নজর রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৫৪৩ দশমিক ৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
রুপার দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭১ দশমিক ৯৫ ডলারে এবং প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে এক হাজার ৯০০ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তেলের চড়া দাম মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে। সুদের হার বাড়লে অ-ফলনশীল সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।
মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বা সরকারি বন্ডের মুনাফার হার সামান্য বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
দরপতন সত্ত্বেও ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়েছে। গয়নার চাহিদা ২৩ শতাংশ কমলেও বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মোটের ওপর চাহিদা বেড়েছে।
ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ বৃদ্ধির খবরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘শিগগিরই বিচক্ষণ হতে’ এবং দ্রুত একটি চুক্তিতে সই করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক