হরমুজ প্রণালি থেকে দুই জাহাজ জব্দ করল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি মালবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এর মধ্যে দুটি জাহাজ তারা জব্দ করে নিজেদের উপকূলে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘নূর নিউজ’ জানিয়েছে, প্রথম জাহাজ ‘এপামিনোন্ডাস’ ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেটির ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এরপর ‘ইউফোরিয়া’ নামক দ্বিতীয় একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটি থামানো হয়। এছাড়া ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ নামের তৃতীয় জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন : বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া, রপ্তানিতে রেকর্ড গড়ল যুক্তরাষ্ট্র
আরও পড়ুন : মার্কিন রণতরীতে খাদ্যসংকট, গাজর সেদ্ধ ও শুকনো মাংস খাচ্ছেন সেনারা
আইআরজিসির নৌকমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী এমএসসি ফ্রান্সেসকা ও গ্রিক মালিকানাধীন এপামিনোন্ডাস জাহাজ দুটি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া চলাচল করছিল। জব্দ করা জাহাজ দুটির নথিপত্র ও মালামাল পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়েছে।
গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জিওস গেরাপেট্রিটিস জানিয়েছেন, গ্রিক জাহাজ এপামিনোন্ডাসে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও সেটি ইরান জব্দ করেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারছেন না।
আরও পড়ুন : ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কি রোববারই শেষ হচ্ছে?
আরও পড়ুন : হরমুজ প্রণালিতে ‘সামুদ্রিক বোমা’ পেতে রেখেছে ইরান, সরাতে লাগবে ৬ মাস
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, আইআরজিসির গানবোটের হামলায় এপামিনোন্ডাস জাহাজের ব্রিজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, এমএসসি ফ্রান্সেসকা জাহাজটির হাল ও নাবিকদের থাকার জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
জব্দ করা জাহাজগুলো বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি এমএসসির একটি বড় বহরের অংশ ছিল বলে জানা গেছে। সংঘাত শুরুর আগে থেকেই এই বহরটি পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছিল। লাইনারলিটিকার তথ্য অনুযায়ী, বহরের বাকি চারটি জাহাজ নিজেদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে সফলভাবে প্রণালিটি পার হতে সক্ষম হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। তবে ট্রম্প জানান, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে। সূত্র : বিবিসি

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক