ট্রাম্পের মুখে আলোচনার বাণী, বাস্তবে কি কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমাগত আশাবাদী বার্তা দিলেও পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন আলোচনা ‘খুব ভালো চলছে’, অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দিয়ে সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার একটি সম্মানজনক পথ খুঁজছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দিন দিন অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও আকাশচুম্বী হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সব শর্তে ইরান রাজি হয়েছে ও বিনিময়ে তারা কিছুই পায়নি। তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া এই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে এবং এ পর্যন্ত ১৩টি ইরানি জাহাজকে তারা ফিরিয়ে দিয়েছে। যদিও মাঠপর্যায়ে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বলছেন, যুদ্ধ কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে ও দুই দেশ এখনো ‘আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি শনিবার রাতে এই বিষয়ে নতুন হালনাগাদ তথ্য দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—কে কার সঙ্গে কথা বলছে? আলোচনার টেবিলে আদতে কী প্রস্তাব রয়েছে? এসব বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সত্যিই কোনো সরাসরি বা গোপন আলোচনা চলছে কি না, তা জানার আক্ষরিক অর্থে কোনো উপায় নেই। এই অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে ট্রাম্পের ‘আলোচনা চলছে’ এমন আশ্বাস, অন্যদিকে সমুদ্রপথে ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক জটিল ধাঁধায় পরিণত হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক