‘ট্রাম্প মানসিক ভারসাম্যহীন, তাকে অপসারণ করা জরুরি’
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার পদের জন্য অনুপযুক্ত উল্লেখ করে তাকে অপসারণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। ব্রেনান যুক্তি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী মূলত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল’। ওই সংশোধনীতে ‘অনিচ্ছাসত্ত্বেও’ প্রেসিডেন্টকে অপসারণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের।
বারাক ওবামার মেয়াদ চলাকালীন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন ব্রেনান শনিবার (১১ এপ্রিল) মার্কিন ক্যাবল নিউজ চ্যানেল ‘এমএস নাউ’-কে বলেন, ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করা নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অস্থির মন্তব্যের জন্য এবং অসংখ্য মানুষের জীবনকে তিনি যে বিপদের মুখে ফেলেছেন, তার জন্য ওভাল অফিস থেকে ট্রাম্পকে অপসারণ করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জন ব্রেনান বলেন, ‘এই ব্যক্তি (ট্রাম্প) স্পষ্টভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন। আমি মনে করি সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিত্বের কথা চিন্তা করেই লেখা হয়েছিল।’
সিআইএ’র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান আরও বলেন, ট্রাম্প এখন দেশের জন্য একটি বড় দায় বা ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রাগারসহ বিশাল সমরাস্ত্র ব্যবস্থার নেতৃত্ব তার হাতে এবং এই ঝুঁকির জন্য তাকে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া উচিত নয়।
সিআইএ’র সাবেক পরিচালকের এই মন্তব্য তাকে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এবং দেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ক্রমবর্ধমান হিংস্র হুমকির বিরুদ্ধে চলমান বিতর্কের সামনের সারিতে নিয়ে এসেছে। গত ৭ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছিলেন যে, ইরানি শাসকরা যদি তার বেঁধে দেওয়া সময়সীমা মানতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা এক রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে’। ব্রেনান মনে করেন, এই হুমকির মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্প যখন তার আক্রমণাত্মক বক্তব্য বাড়িয়ে দিয়েছেন, তখন পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি তুলেছেন। ১৯৬৭ সালে মার্কিন সংবিধানে যুক্ত হওয়া এই আইন অনুযায়ী, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য যদি মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট ‘তার পদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে অক্ষম’, তবে তারা তাকে অপসারণ করতে পারেন।
এনবিসি নিউজের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য এই সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বাস্তবে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়, কারণ ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পুরো মন্ত্রিসভা ট্রাম্পের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রদর্শন করে চলেছে। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ভাষা এবং ধ্বংসাত্মক হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে, বিশেষ করে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পুনরায় যুদ্ধ শুরুর যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে।
ব্রেনানের এই মন্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ট্রাম্পের বিচার বিভাগ বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত চালাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে প্রেসিডেন্টের ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের চাপে বিচার বিভাগ গত বছরের জুলাই মাসে জন ব্রেনান এবং এফবিআই-এর সাবেক পরিচালক জেমস কোমি-র বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে।
এর দুই মাস পর, ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের তদন্ত নিয়ে কংগ্রেসে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে জেমস কোমি-র বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। যদিও একজন বিচারক সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। জানা গেছে, ব্রেনানের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে। গত মার্চে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডান দাবি করেছিলেন, এই তদন্ত প্রক্রিয়া এখন আরও জোরালো হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক