যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়, ট্রাম্পের ওপর আস্থা কমছে জনগণের
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মার্কিন অর্থনীতিতে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি আর জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে দেশটির সাধারণ মানুষ। সিবিএস ও ইউগভের সাম্প্রতিক এক যৌথ জনমত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। খবর আলজাজিরার।
জরিপে দেখা গেছে, গত মার্চ মাসের শেষের তুলনায় ইরান যুদ্ধের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন ৩৮ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিকই এই যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান করছেন, যা যুদ্ধের শুরু থেকেই দেশটিতে এই সংঘাতের অজনপ্রিয়তাকে স্পষ্ট করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্সের (সিপিআই) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি এখন লাগামহীন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের ব্যয়ভার এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এই অর্থনৈতিক সংকটের প্রধান কারণ। সাধারণ মার্কিনিদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে রাজনীতির মাঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের সক্ষমতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনমত জরিপ বলছে, সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের ওপর জনগণের আস্থা এখন তাঁর প্রেসিডেন্সি মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া ও ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব মার্কিন অভ্যন্তরীণ জনমতকে আরও বিষিয়ে তুলেছে। একদিকে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান খরচ, অন্যদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্য—এই দুইয়ের চাপে পড়ে মার্কিন ভোটাররা এখন যুদ্ধের চেয়ে স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। আগামী দিনগুলোতে এই অনাস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক