লারিজানি হত্যা, যুদ্ধ থামানোর চেষ্টায় বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প?
ইরানের প্রভাবশালী নেতা লারিজানির হত্যাকাণ্ড যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাবনাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট’-এর বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি লারিজানিকে ইসরায়েলি গুপ্তহত্যার বিষয়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
ত্রিতা পারসি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে লারিজানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তিনি কেবল একজন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীই ছিলেন না, বরং ইরানি শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ‘প্রধান ঐকমত্য সৃষ্টিকারী’ হিসেবে কাজ করতেন। অর্থাৎ, কোনো আলোচনায় বসলে পুরো ব্যবস্থাকে একমতে আনার ক্ষমতা তার ছিল।
বিশ্লেষক পারসি আরও উল্লেখ করেন, গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ইরানের নেতৃত্ব তাদের সব গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন প্রতিনিধি নিয়োগ করেছে। কারণ তারা জানত যে, ইসরায়েল এই ধরনের ‘নেতৃত্ব-ছেদকারী’ হামলার মাধ্যমে তাদের শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করবে।
পারসির মতে, এই হত্যাকাণ্ডের ফলে ইরান সরকারের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমবে না। বরং এটি ট্রাম্পের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, যুদ্ধ বন্ধের জন্য ট্রাম্পকে এমন কাউকে আলোচনার টেবিলে খুঁজে পেতে হবে, যার কথা ইরানের পুরো ব্যবস্থা মেনে নেবে। লারিজানির মতো ব্যক্তিকে হারিয়ে সেই সম্ভাবনা এখন ফিকে হয়ে গেছে।
পারসি আরও বলেন, এই ইসরায়েলি গুপ্তহত্যার মাধ্যমে আসলে সেই সব ব্যক্তিদের নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে যারা শান্তি আলোচনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতেন। উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, এই গুপ্তহত্যার চূড়ান্ত ফলাফল হলো—যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার যে পথ ট্রাম্প খুঁজছিলেন, তা এখন আরও কঠিন হয়ে পড়ল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক