ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বে উদ্বেগের ঝড়
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এই ঘটনায় তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। এনটিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য সেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-
রাশিয়া : আলোচনা ছিল কেবল একটি ‘আড়াল’
রাশিয়া তার নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা ছিল কেবল একটি ‘আড়াল’। তিনি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বলেন, ‘তথাকথিত শান্তিদূত আবার সক্রিয়। ইরানের সাথে আলোচনা ছিল নিছক একটি আবরণ। সবাই তা জানত। এখন শত্রুর শোচনীয় পরিণতির জন্য অপেক্ষা করার ধৈর্য কার বেশি আছে?’
কাতার : ‘নিরাপদ’ থাকার দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা কাতার শুরুতে জানিয়েছিল তারা নিরাপদ আছে, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরবর্তীতে একজন কর্মকর্তা এএফপি-কে জানান, কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তারা বেশ কিছু হামলা প্রতিহত করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন : ‘বিপজ্জনক’ পরিস্থিতি
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তারা যে কোনো সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন এক্স-এ সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেছেন। বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অত্যন্ত জরুরি বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইইউ-এর শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস ওই অঞ্চল থেকে ব্লকের জরুরি নয় এমন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য : ‘ব্যাপক সংঘাত’ এড়ানোর আহ্বান
যুক্তরাজ্য সরকার আশঙ্কা করছে এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে একটি ব্যাপক সংঘাত উসকে দিতে পারে। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমরা এই আঞ্চলিক সংঘাতের আর বিস্তার দেখতে চাই না।
শাহজাদা রেজা পাহলভি: ‘চূড়ান্ত বিজয়’ খুব কাছে
ইরানের শেষ শাহর ছেলে এবং বর্তমান তেহরান সরকারের কট্টর সমালোচক রেজা পাহলভি বলেছেন, এই হামলার পর আমরা চূড়ান্ত বিজয়ের খুব কাছাকাছি। ওয়াশিংটনে নির্বাসিত এই নেতা ইরানিদের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় বলেন, ‘আমি যত দ্রুত সম্ভব আপনাদের পাশে থাকতে চাই যাতে আমরা একসাথে ইরানকে পুনর্গঠন করতে পারি।’
জর্ডান : আকাশসীমা সুরক্ষিত
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলা চলাকালীন তাদের বিমান বাহিনী রাষ্ট্র এবং জনগণকে রক্ষায় সক্রিয় ছিল। সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, জর্ডানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
ইউক্রেন : দোষ ইরানের
ইউক্রেন দাবি করেছে যে, ইরান সরকারের নিজ দেশের জনগণের পাশাপাশি এবং অন্য দেশের ওপর সহিংসতাই এই হামলার কারণ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ ইরানের শাসনের স্বৈরাচারী আচরণ এবং শান্তিকামী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন।
ফ্রান্স : নিরাপত্তা অগ্রাধিকার
মধ্যপ্রাচ্যে বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি থাকা ফ্রান্স জানিয়েছে, তাদের মূল অগ্রাধিকার হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা। উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যালিস রুফো বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হলো নাগরিকদের এবং আমাদের সামরিক বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
আফ্রিকান ইউনিয়ন : স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে
আফ্রিকান ইউনিয়ন এই হামলার পর সংযম এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান মাহমুদ আলী ইউসুফ সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাতের বিস্তার বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে, যা জ্বালানি বাজার, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে আফ্রিকার অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক