পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে ইরানের প্রতি অসন্তুষ্ট ট্রাম্প
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সর্বশেষ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। তবে দেশটির ওপর সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
জেনেভায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এ নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, ওরা আমাদের যা দরকার, তা দিতে রাজি নয়। তাই আমি সন্তুষ্ট নই। তবে আমি সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে চাই না—যদিও কখনও কখনও তা করতে হয়। খবর বিবিসির।
এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশ ইরানে থাকা তাদের নাগরিকদের প্রতি সতর্কতা জারি করেছে। যুক্তরাজ্য তেহরানে তাদের দূতাবাসের কিছু কর্মী সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে এবং ইসরায়েলে ‘জরুরি ছাড়া ভ্রমণ না করার’ পরামর্শ দিয়েছে।
চীন, ভারত ও কানাডা তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। জার্মানি ইসরায়েল ভ্রমণ থেকে ‘জরুরি ভিত্তিতে’ বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ফ্রান্সও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে অবস্থানরত নাগরিকদের ‘অবিলম্বে’ দেশত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারকে প্রয়োজনে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।
ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। যদিও তেহরান দাবি করে, তাদের কর্মসূচি কেবল বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে তারা অস্ত্রমানের কাছাকাছি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আমি বলছি—কোনো সমৃদ্ধকরণ নয়। এটা অগ্রহণযোগ্য।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানান, ইরান নাকি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তার মতে, যদি মজুদ না থাকে, তাহলে বোমা তৈরির সুযোগও থাকবে না।
বদর আলবুসাইদি বলেন, দুই পক্ষই ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ করেছে এবং শিগগিরই রাজধানীগুলোতে পরামর্শ শেষে আলোচনা পুনরায় শুরু হবে। আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তবে মতপার্থক্য এখনও রয়ে গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আবার আলোচনা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার (২ মার্চ) ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরানসহ আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।
রুবিও শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইরানকে ‘ভুল আটক রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে ঘোষণা করেন। নতুন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র অন্যায়ভাবে নাগরিকদের আটক রাখার অভিযোগে কোনো দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক